নজরবন্দি ব্যুরোঃ টিজিটি স্কেলের দাবিতে দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলন করে আসছে গ্রাজুয়েট শিক্ষকদের অরাজনৈতিক শিক্ষক সংগঠন বিজিটিএ। শিক্ষকদের দাবি, বহুবার শিক্ষামন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী সহ বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে ঘুরে তাদের দাবি পত্র পৌঁছে দিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। বহু বার রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছে, শাসক দল সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে ও শিক্ষক সংগঠনকে আহ্বান করেছে। সেখানে অন্যান্য শিক্ষক সংগঠন উপস্থিত থাকলেও শাসক দলের পক্ষ হতে কেউ আসেননি।
আরও পড়ুনঃ নতুন আবাসন গড়তে এবার নিকাশির অনুমতি বাধ্যতামূলক, জানালেন ফিরহাদ
তাদের মূল দাবি সারা ভারত বর্ষে একজন গ্রাজুয়েট ও পোস্ট গ্রাজুয়েট শিক্ষকের মূল বেতনের পার্থক্য যেখানে ২৭০০ টাকা। পশ্চিমবঙ্গে সেখানে ৯২০০ টাকা। অবিলম্বে পে স্কেল সংশোধন করে এই বৈষম্য দূর করতে হবে। একাধিকবার আশ্বাস পেলেও দাবি পুরণ হয়নি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষকদের। বেতনের বৈষম্য থেকেই গেছে। এবং তা বেড়েছে পর্যায়ক্রমে। গ্রাজুয়েট শিক্ষকদের ‘পাস ক্যাটাগরি’র শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত করায় এই পার্থক্য এখন আরও বৃহৎ আকার ধারণ করেছে। তাই আন্দোলন রাজ্য ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে রাজধানী দিল্লিতে!
নিজেদের অধিকার বুঝে নিতে গ্র্যাজুয়েট শিক্ষকরা বাংলার গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল বৃহত্তর গ্রাজুয়েট টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (BGTA)। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে কিছুতা হলেও সুখবর পেলেন তাঁরা।
রাজ্যকে সুপ্রিম নির্দেশ সর্বোচ্চ আদালতের, শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য মিটবে এবার?

গতকাল এই মামলার শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টে। টিজিটি স্কেল বা বেতন বৈষম্য মামলায় কোন নির্দিষ্ট রায় না দিলেও সুপ্রিম কোর্ট সওয়াল করেছে শিক্ষকদের পক্ষেই। সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি আব্দুল নাজির এবং বিচারপতি কৃষ্ণ মুরারির বেঞ্চে মামলাটি শুনানির হয়। গ্র্যাজুয়েট শিক্ষকদের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান। শেষে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যকে নির্দেশ দেয় শিক্ষকদের বেতন বৈষম্যের বিষয়টি বিবেচনা করার।



