নজরবন্দি ব্যুরোঃ আচমকা দলীয় গ্রুপ ত্যাগ, বিজেপি ছাড়ার জল্পনা ওড়ালেন মুকুল ঘনিষ্ঠ বিধায়ক। মুকুল রায়ের তৃণমূলে ফেরার পরেই একের পর এক বিজেপির নেতা মন্ত্রীরা বেসুরো গাইতে শুরু করেছেন। দলের ভাঙন ঠেকাতে কার্যত হিমসিম অবস্থা রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের। গতকাল বিরোধী দলনেতার চূড়ান্ত নির্দেশ সত্ত্বেও রাজভবনে মেরেকেটে ২৪ জন বিধায়কের দেখা পাওয়া যায়। সেই মুহূর্তেই জল্পনা ছড়াতে শুরু করে তবে কি বাকিরা দলত্যাগের পথে। এরই মধ্যে আচমকা দলের হোয়াটস্যাপ গ্রুপ ছেড়ে তীব্র জল্পনা উস্কে দিলেন কালিয়াচকের বিজেপি বিধায়ক সৌমেন রায়।
আরও পড়ুনঃ আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা।
মুকুল রায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ওই নেতা দেড় বছর আগে বিজেপিতে যোগ দেন। তারপর এবছর কালিয়াচক থেকে বিজেপির টিকিটে জিতে ভোটে নির্বাচিত হন। সূত্রের খবর, ২০২১ বিধানসভা ভোটের আগে দলের সংগঠনের কাজের জন্য উত্তর দিনাজপুর জেলা বিজেপি সভাপতির তরফে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করা হয়। সেখান থেকেই আচমকা গতকাল বেরিয়ে যান সৌমেনবাবু। তারপরেই জল্পনা তীব্র হয় দল ছাড়ার। গত রবিবার দলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে বেড়িয়ে যাওয়ায় শুরু হয়েছে জল্পনা। আগেই জানা গিয়েছিল মুকুল রায় তৃণমূলে ফিরেই উত্তরবঙ্গের একাধিক নেতা, বিধায়ককে ফোন করেন। সেই তালিকায় কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক সৌমেন রায়ের নাম ছিল কিনা জানা নেই।
তবে সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে সৌমেনবাবু জানিয়েছেন “আমি বিজেপির আট থেকে ৯ টি গ্রুপে রয়েছি। সব গ্রুপে কথা বলার মতো স্পেস থাকে না। সেই কারণেই দুটো গ্রুপ থেকে বেরিয়ে গিয়েছি। তাতে তো সমস্যার কিছু নেই। বাকি সব গ্রুপেই রয়েছি। আর বিজেপির সঙ্গে আমি ছিলাম। আজীবন থাকব। বিজেপি ত্যাগের কোনও প্রশ্নই নেই।” এর পাশাপাশি তিনি আরও বলেন “ভোটের আগে থেকেই আমার বিরুদ্ধে নানা রকম অপপ্রচার করা হচ্ছে। কুত্সা করা হয়েছে। যাঁরা আমার বিরুদ্ধে এসব করছে তাঁদের লজ্জা করা দরকার। আমার বিশ্বাস একদিন সত্য সামনে আসবে।” প্রসঙ্গত নির্বাচনের আগে তাঁর স্ত্রী তাঁর বিরুদ্ধে পরকীয়া, টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়া সহ একাধিক অভিযোগ তোলেন।
আচমকা দলীয় গ্রুপ ত্যাগ, বিজেপি ছাড়ার জল্পনা ওড়ালেন মুকুল ঘনিষ্ঠ বিধায়ক। তার দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই একথা বললেন সৌমেনবাবু। তিনি জল্পনা উড়িয়ে দিলেও সেই জল্পনা পুরোপুরি যাচ্ছে না। অনেকেই বলছেন মুখে যাই বলুন অদূর ভবিষ্যতে তৃণমূলের গ্রিন সিগন্যাল পেলে তিনি দলত্যাগ করলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।



