ফিরতে চেয়ে সোনালিরা তাকিয়ে ছিলেন ৫ তারিখের দিকে, সৌগত বললেন এই টপিকে কথা হয়নি আজ

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ফিরতে চেয়ে সোনালিরা তাকিয়ে ছিলেন ৫ তারিখের দিকে, নির্বাচনের আগে একটা সময় যে হারে রাজনোইতিক দলবদলের সাক্ষী থেকেছে বাংলা। রাজনৈতিক মহলের অনেকেই সময়টাকে দল বদলের মরশুম বলে থাকেবন ঠাট্টা করে। গত ডিসেম্বরে  অনেক ভেবে চিনতে শুভেন্দু অধিকারী পদ্মবনে যোগ দেওয়ার পরেই শুরু হয়েছিল দলবদলের হিড়িক।

আরও পড়ুনঃমন্ত্রীদের গাড়িতে লালবাতি ব্যবহারে ‘না’ দিদির, যা খুশি বলা যাবেনা সোশ্যাল মিডিয়ায়

শুভেন্দুর দল বদল নিয়ে তার আগে থেকেই জল্পনা চলছিলই। কিন্তু তাঁর পরে পরেই একাধিক নেতা মন্ত্রী, দলে থেকে কাজ করে না পারার জন্য, কেউ বা গেরুয়া শিবিরে গিয়ে সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে ঘাসফুল শিবির ত্যাগ করেছিলেন। দলের জন্মলগ্ন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকার পর অনেকেরই মনে হয়েছিল উপযুক্ত সম্মান পাননি, বকেয়া সম্মান লাভের আশায় অনেকেই গিয়েছিলেন গেরুয়া শিবিরে। কারো কারো ক্ষেত্রে কারন ছিলো নির্বাচনে টিকিট না পাওয়া।

সবন মিলিয়ে ভোটের ঠিক আগে আগেই একদিক থেকে নেতা মন্ত্রী কর্মী নিয়মিত বিজেপির যোগ দান মেলায় গিয়ে নাম লিখিয়েছিলেন। তার পরে মাসখানেক পেরিয়েছে। নির্বাচনে হেরেছে বিজেপি, এবং ব্যাপক মার্জিনে জিতেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর তার পরেই অনেকেই বুঝতে পেরেছেন পুরান সংসার ভেঙে ভুল করেছেন।

অগত্যা নতুন সংসার থেকে ইস্তফা দিয়ে তাঁরা ফিরতে চাইছেন তৃণমূলে। এঁদের মধ্যে অন্যতম মমতার প্রথম সময়ের সঙ্গী সোনালি গুহ। দিদির অপর প্রচন্ড অভিমানে দলত্যাগ করেছিলেন তিনি। অচিরেই ভুল বুঝতে পেরে পোস্ট দিয়েছিএলন জল ছাড়া যেমন মাছ বাঁচেনা, দিদিকে ছাড়া বাঁচবেন না তিনিও। লিখেছিএলন, “সম্মানীয় দিদি, আমার প্রণাম নেবেন, আমি সোনালি গুহ, অত্যন্ত ভগ্ন হৃদয়ে বলছি যে, আমি আবেগপূর্ণ হয়ে চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্য দলে গিয়ে ছিলাম যেটা ছিল আমার চরম ভুল সিদ্ধান্ত, কিন্তু সেখানে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারিনি। মাছ যেমন জল ছাড়া বাঁচতে পারে না, তেমনই আমি আপনাকে ছাড়া বাঁচতে পারব না, দিদি আমি আপনার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী, দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। আপনি ক্ষমা না করলে আমি বাঁচব না। আপনার আঁচলের তলে আমাকে টেনে নিয়ে, বাকি জীবনটা আপনার স্নেহতলে থাকা সুযোগ করে দিন”।

তার পরই মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ফেরত সোনালি জানিয়েছিলেন, “দিদির বডি ল্যাঙ্গোয়েজ দেখে তো তাই মনে হয়েছে। পজিটিভ লেগেছে। দেখা যাক। ৫ তারিখে কোর কমিটির বৈঠক ডেকেছেন। সেখানে নিশ্চয়ই কিছু ঘোষণা করবেন। আগে দলে যোগ দিই। তারপর সব বলব”।। শুধু সোনালি নন, দলে ফেরার লাইনে অপেক্ষা করছেন আরও অনেকেই। ইতিমধ্যেই  বিজেপি থেকে পদত্যাগ করেছেন বেশ কয়েকজন নেতা। তারাও সকলে ফের ফিরতে চান দলে।

তবে মমতা নিজে কিছু না জানালেও দলের অনেকেই জানিয়েছিলেন কঠিন সময়ে যাঁরা চলে যান তাঁদের ফেরানর দরকার নেই। অন্তত কয়েকমাস দেখা হোক তাঁদের। ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছিলেন “এটা দলের ব্যাপার। এটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার নয়। দল যা সিদ্ধান্ত নেবে সেটা আমাদের সবাইকে মানতে হবে। যারা দলে ফেরার জন্য আবেদন করেছে তাঁদের ক্ষমা ঘেন্না করে দিলে ভাল হয়। তবে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব। আজকে গেলাম কালকে ফিরে এলাম, এটা তো দল।

এটা তো মন্দির নয়, যে যে ইচ্ছে, যখন ইচ্ছা এসে ঘণ্টা বাজিয়ে যাবে। তবে, আমি বলব, যারা ভুল করেছে, যারা অনুতপ্ত, তাঁদের কিছুদিন সময় দেখে নিশ্চয় একটা সময় ক্ষমা করবেন। তবে, আমি নিজে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। বা সিদ্ধান্ত জানাতে পারি না। কারণ আমি দলের অনুগত সৈনিক।”

ফিরতে চেয়ে সোনালিরা তাকিয়ে ছিলেন ৫ তারিখের দিকে, ফিরহাদের কথায় দলবদলুদের ফেরানর ইঙ্গিত পেলেও বৈঠক শেষে সৌগত রায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দলে ফিরতে চাওয়া নেতাদের নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। এ বিষয়ে যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেবেন মমতা। 

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন