নজরবন্দি ব্যুরোঃ মুকুল রায়ের অসুস্থ স্ত্রী’কে দেখতে হাসপাতালে গেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, বর্তমানে একমো সাপোর্টে রয়েছেন মুকুল বাবুর স্ত্রী কৃষ্ণা রায়। তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সঙ্কটজনক। এই অবস্থায় বুধবার সন্ধ্যায় তাঁকে দেখতে হাসপাতালে উপস্থিত হন অভিষেক। সূত্রের খবর, প্রায় আঘধণ্টা সময় হাসপাতালে কাটান তিনি। মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশুর সঙ্গেও কথা হয়েছে অভিষেকের বলে খবর।
আরও পড়ুনঃ করোনা মুক্তির পথে বাংলা, ৭৫ হাজার টেস্টে মাত্র ৮ হাজারের ঘরে সংক্রমণ!
কদিন আগেই বিজেপি-কে হুঙ্কার দিয়ে তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বিজেপি সর্বভারতীয় সহ সভাপতি মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশু রায়। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের তীব্র সঙ্ঘাতের আবহে বিজেপিকে তুলোধনা করেন তিনি। কদিন আগে এক ফেসবুক বার্তায় শুভ্রাংশু লিখেছিলেন, “জনগণের সমর্থন নিয়ে আসা সরকারের সমালোচনা করার আগে আত্মসমালোচনা করা বেশি প্রয়োজন!”
এতেই যেন ঘৃতাহুতি হয়েছে। শুভ্রাংশুর পোস্ট ব্রম্ভাস্ত্রর মত বিঁধেছে বিজেপির অন্দরমহলে। বীজপুর আসনে শুভ্রাংশু তৃণমূল প্রার্থীর কাছে হেরে গিয়েছেন ‘২১ নির্বাচনে। বিজেপির লোকসভা জয়ের কাণ্ডারী মুকুল রায়কে কার্যত বসিয়ে দেওয়া হয় বিধানসভা নির্বাচনে। একপ্রকার বাধ্য করা হয় কৃষ্ণনগর উত্তর থেকে প্রার্থী হওয়ার। বিজেপির ভরাডুবির মধ্যেই নিজের আসনে জিতেছেন মুকুল। কিন্তু জেতাতে পারেননি পুত্রকে।
কিন্তু শুভ্রাংশু আচমকা কেন এমন সমালোচনা করলেন? সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, “এটা তো মানতে হবে যে একটা সরকার মানুষের বিপুল সমর্থন নিয়ে সবে ক্ষমতায় এসেছে। তার মধ্যেই সিবিআইয়ের টানাটানি শুরু হয়েছে। তার পর মুখ্য সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল্লিতে বদলি করে দেওয়া হয়েছে। এ ভাবে বিরক্ত না করে আমাদের তো আত্মসমালোচনা করা উচিত।”
শুভ্রাংশু তাঁর বাবা এবং মায়ের অসুস্থতা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “এই যে মা এতদিন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। বাবাকে কাচড়াপাড়ায় নিয়ে এলাম। একমাত্র শুভেন্দু দা(শুভেন্দু অধিকারী) ছাড়া দলের কেউ আমাকে বা বাবাকে ফোন করেছেন? হ্যাঁ দিব্যেন্দু দা (দিব্যেন্দু অধিকারী) ফোন করেছিলেন। তিনি তো আমার দলের কেউ না। কিন্তু আমাদের দলের কেউ তো ফোন করেননি!”
শুভ্রাংশুর পোস্ট প্রসঙ্গে ২দিন আগেই সৌগত রায় বলেছেন, “ও তো একসময় আমাদের দলেই ছিল। ওর খুব খারাপ লেগেছে হয়তো। তবে ভালো, ওর শুভবুদ্ধি জেগেছে”। শুভ্রাংশু কে স্নেহের পাত্র হিসেবে ব্যাখ্যা করে সৌগত বাবু বলেন, “ও আমাদের স্নেহের পাত্র। কত ছোট। ওর বাবাই তো আমাদের থেকে ছোট”।
মুকুল রায়ের অসুস্থ স্ত্রী’কে দেখতে আজ হাসপাতালে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দিয়ে এসেছেন পাশে থাকার বার্তা। উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট পর্বের মধ্যেই মুকুল রায়ের সুনাম করেছিলেন। ফল বেরোনোর পর বার্তা দিয়েছেন দল থেকে বেরিয়ে যাওয়া নেতাদের। যারা ঘরে ফিরতে চায় আসতে পারে! সুতরাং অদূর ভবিষ্যতে মুকুল রায় আবার তৃণমূলে ফিরছেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল। কারন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেপি হাসপাতালে গিয়েছিলেন এদিন, কথা হয়েছে শুভ্রাংশুর সাথে। দিয়ে এসেছেন পাশে থাকার বার্তা।



