নজরবন্দি ব্যুরোঃ আলাপন চ্যাপ্টার ইজ ওভার নাও! আজ নব্বানর বৈঠক থেকে সাফ জানিয়ে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল মুখ্যসচিবের পদ থেকে তিনি ইস্তফা দিতেই অনেকে মনে করেছিলেন এবার বন্ধ হবে এই ইস্যু। কিন্তু তার পরি আইএএস রুল বুক থেকে কেন্দ্র যেভাবে সরে গিয়ে প্রাক্তন আমলার বিরুদ্ধে বিপর্যন্য মোকাবিলা আইনে নোটিস পাঠিয়েছিল, তাতে ওয়াকিবহাল মহল ভেবেছিল এই জল এখনো গড়াবে বহুদূর।
আরও পড়ুনঃ বর্ষা নামার আগে, আগামীকাল থেকে প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি শুরু হচ্ছে বাংলায়।
কাল পর্যন্ত রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব কে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর নাছোড় মনোভাব জারি থাকলেও আজকের বৈঠক থেকে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “আলাপন চ্যাপ্টার ইজ ওভার নাও!” একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচন করলেও এই টপিকে কোন আলোচনা করেন নি। উপরন্তু কোন প্রশ্নও করতে মানা করেন।
ঘটনার সূত্রপাত আগের সপ্তাহে, গত শুক্রবার দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজ্যের ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা করার উদ্দেশ্যে বাংলায় এলেও সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকেননি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। কয়েক মিনিটের মাথায় মোদিকে রাজ্যের ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট দিয়ে মুখ্যসচিব সঙ্গে নিয়ে যান দিঘার বিপর্যস্ত এলাকা পরিদর্শনে। সেদিন রাতেই কেন্দ্র থেকে আলাপনের বদলির চিঠি আসে।
তার পর থেকে দিন কয়েক একপ্রকার কেন্দ্র রাজ্য পত্র প্রেরণ চলাতেও কোন সমাধান না মেলায় মুখ্যসচিবের পদ থেকে ইস্তফা দেন আলাপন। আর তার কয়েকঘন্টা পরেই তাঁকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা বানিয়ে নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরেও গতকাল কেন্দ্রের তরফ থেকে প্রাক্তন আমলাকে বিপর্যয় মোকাবিলা আইনের ধারায় শো-কজ করা হয়েছে। বিপর্যয় মোকা বিলা আইন ২০০৫ এর ভিত্তিতে জবাব চাওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে না থাকার জন্য।
প্রধানমন্ত্রী রাজ্যের বিপর্যয় পরিদর্শনে গিয়েছেন এবং বৈঠক করেছেন, কেন্দ্রের ব্যাখ্যা রাজ্যের মুখ্যসচিব হিসেবে সেখানে উপস্থিত না থেকে আইন অমান্য করেছেন আলাপন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে ফৌজদারি প্রক্রিয়ার মুখেও পড়তে পারেন তিনি। হতে পারে জেল-জরিমানাও। এমনিতেই গত কয়েকদিনে একাধিক পত্র প্রেরন আর এই প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে নাছোড় মনোভাব দেখিয়েছেন, তাতে অনেকেই মনে করেছিলেন আজকের সাংবাদিক বৈঠক থেকেও এই বিষয়ে বক্তব্য রাখবেন তিনি। তবে সংঘাত জারি থাকলেও আজ সাংবাদিক বৈঠকে মমতার ‘চ্যাপ্টার ওভার’কে রাজনৈতিক মহল মনে করছে এই বিষয়ে কেন্দ্রকে আর বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছেন না রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।
অন্যদিকে আজ আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে ‘উনি(আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়) বাংলার মানুষের জন্য কাজ করছিলেন। যিনি কাজ করছিলেন তাঁকে কেন শো-কজ! প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিপর্যয় মোকাবিলা আইন প্রয়োগ করা উচিত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওই আইন প্রয়োগ হোক। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও। কমিশনের ব্যর্থতা। প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে ওই আইন প্রয়োগ হোক। দেশে যখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউ, প্রতি দিন লাখ চারেক বলে মারা যাচ্ছেন, সকলকে বাড়িতে থাকার কথা বলা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী তখন এ রাজ্যে এসে সভা করছেন। আর বলছেন, এত বড় সভা কখনও দেখিনি। ওর বিরুদ্ধে আগে ওই আইন প্রয়োগ হওয়া উচিত।’’



