নজরবন্দি ব্যুরোঃ ভরা কোটাল আর ইয়াস, এই দুইয়ের মেলবন্ধন সবথেকে বেশি চিন্তায় ফেলেছে প্রশাসন থেকে সাধারণ মানুষকে। ল্যান্ডফলের আগে থেকেই ব্যাপক জলোচ্ছাস লক্ষ্য করা গেছে মেদিনীপুর থেকে সুন্দরবন সর্বত্র। সময়ের কয়েকঘন্টা আগেই ল্যান্ডফল হয়েছে প্রবল ঝড়ের। প্রবল জলোচ্ছাসে কার্যত লন্ডভন্ড দিঘা। জলের তলায় বাজার হাট, বাঁধ ভাঙছে একের পর এক। প্রতিবছরের এই দুর্যোগ সয়ে যাওয়া মানুষগুলোও বলছেন এমন বিপর্যয় দেখেননি কখনো।
আরও পড়ুনঃ এ লড়াই জিততে সাড়া আসছে ডাকলে, রাতে খাবারও খেয়েছেন বুদ্ধবাবু।
সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ আছড়ে পড়েছে ইয়াস। তার সঙ্গেই দোসর হয়ে এসেছে আজকের ভরা কোটাল। সকাল ১১ তা ৩৭ মিনিট নাগাদ জলের স্তর হয়েছে সর্বোচ্চ। ফলে সাগর পাড়ের সব এলাকার পরিস্থিতি ভয়াবহ। তার সঙ্গেই এবার আসরে থাকবে বছরের প্রথম এবং শেষ ব্লাডমুন।
ভরা কোটাল আর ইয়াস, তান্ডবে দিঘা সহ দুই পরগণায় বাঁধ ভেঙেছে ইতিমধ্যেই। গোসাবা গোমরে জল বেড়ে হুহু করে জল ধুকছে ঘরে। জলের তলায় ফ্রেজারগঞ্জ। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে একাধিক জায়গায়। ঘরের চালে ভেঙ্গে পড়ছে গাছ। ইতিমধ্যে তছনছ হয়েছে শঙ্করপুর-তাজপুর। সুন্দরবনের একাধিক এলাকায় বাঁধ ভেঙ্গে জল ঢুকছে হুহু করে। বহু মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ত্রাণ শিবিরে। কিছু মানুষ চোখের সামনে ধুয়ে যেতে দেখছেন নিজের দোকান, বাড়ি। ধুয়ে যাচ্ছে স্বপ্ন। রান্নার উনোন খুঁজে পাবেন না তাঁরা আগামি কয়েকদিন। হতাশা আর আতঙ্ক নিয়ে প্রাণ ধরে, আর ঘরের ছোট ছেলের হাত ধরে মুহুর্ত গুনছেন এই ঝড় থামার।



