নজরবন্দি ব্যুরোঃ সংক্রমণ অনেক কমলেও ঝুঁকি না নিয়ে এক সপ্তাহ লকডাউন বাড়ানো হল দিল্লীতে। করোনার মারণ কামড়ে কিছুদিন আগেই কাবু হয়ে যাওয়া রাজধানীর চিত্র অনেকটাই পাল্টে গিয়েছে। সংক্রমন কমেছে ব্যাপক হারে। ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কিছুটা চোখ রাঙালেও সার্বিকভাবে যথেষ্ট নিয়ন্ত্রনে পরিস্থিতি। তবে তার জন্য লকডাউনে ঢিলেমি দিতে নারাজ কেজরিওয়াল সরকার। তাই ফের এক সপ্তাহ বাড়ানো হল দিল্লীর লকডাউনের মেয়াদ।
আরও পড়ুনঃ প্রাইমারী টেটের মেধাতালিকায় যুক্ত করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি নন ইনক্লুডেড প্রার্থীদের।
আগামী ৩১ মে ভোর ৫টা পর্যন্ত লকডাউনের কড়াকড়ি বজায় থাকবে। আজ এমনটাই ঘোষণা করেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তাঁর দাবি, করোনার সংক্রমণ আগের চেয়ে কমেছে। কিন্তু তাতে পুরোপুরি রাশ টানা যায়নি। যদি আগামী সপ্তাহে আক্রান্তের গ্রাফ নামতে থাকে, তাহলে আনলকের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে সেটাও চলবে ধীরগতিতে। এই নিয়ে তিনি জানান “সময় কম। আর এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই দিল্লির নাগরিকদের টিকাকরণ সুনিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য সমস্ত আয়োজন প্রস্তুত। যাতে করে আগামী তিনমাসের মধ্যে সকলকে ভ্যাকসিন দেওয়া যায়। কিন্তু সমস্যা তৈরি করছে টিকার সংকট।”
ভ্যাকসিনের আকাল নিয়ে কেন্দ্রকে বিঁধে তিনি জানান ভ্যাকসিনেশনের জন্য দিল্লই সরকার ইতিমধ্যে কেন্দ্র এমনকী বিদেশি সংস্থাগুলির দ্বারস্থ হয়েছে। এই দুর্যোগের সময় কেউ ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে চাইলে তাঁরা যে কোনও মূল্যে কিনতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি। প্রসঙ্গত বর্তমানে দিল্লিতে সংক্রমণের হার নেমেছে ২.৫ শতাংশে, যা গত ১ এপ্রিলের পর থেকে সবচেয়ে কম। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে নতুন করে ১৬০০ জনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। যা মার্চের এক তারিখের পর থেকে সর্বনিম্ন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় প্রাণ গিয়েছে ১৮২ জনের। এই মুহূর্তে দিল্লিতে সব মিলিয়ে মৃত ২৩ হাজার ১৩।
সংক্রমণ অনেক কমলেও ঝুঁকি না নিয়ে এক সপ্তাহ লকডাউন বাড়ানো হল দিল্লীতে। সক্রিয় রোগীর সংখ্যাও কমে দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৩০৮। এমনকী মাসখানেক আগেও রাজধানীতে সংক্রমণের হার ছিল প্রায় ২৫ শতাংশ। যা বর্তমানে ৪ শতাংশের নীচে নেমে গিয়েছে। এই পরিসংখ্যান দেখে অনেকটাই আশ্বস্ত দেশের চিকিৎসামহল। দ্বিতীয় ঢেউ অনেকটাই কাটিয়ে উথেছে দিল্লী বলেই মনে করছে তারা।



