নানা পাটেকরকে ঘিরে দর্শকের মনে যে ছবিটি সবচেয়ে বেশি পরিচিত, তার একটি দিক তাঁর তীব্র ব্যক্তিত্ব এবং রাগী মেজাজ। পর্দায় যেমন তাঁর অভিনয়ে আগুন ঝরত, বাস্তব জীবনেও নানা পাটেকরের মেজাজ নিয়ে বহু কথা হয়েছে। কিন্তু প্রয়াত অভিনেতার ঘনিষ্ঠ বন্ধু মিঠুন চক্রবর্তীর কথায় উঠে এল সেই স্বভাবের অন্য ব্যাখ্যা।
নানা পাটেকরের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করতে গিয়ে মিঠুন তাঁকে নিজের অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর কথায়, নানা ছিলেন অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করা একজন মানুষ এবং বহু মানুষকে সাহায্য করতেন। নানার রাগ নিয়ে যে আলোচনা হতো, সেটিও নিজের অভিজ্ঞতা থেকে ব্যাখ্যা করেছেন মিঠুন।
‘সবকিছু ঠিকঠাক না থাকলেই রাগ’
নানার মেজাজ নিয়ে মিঠুনের বক্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর মতে, নানা যখন দেখতেন কোনও কিছু ঠিকঠাক বা গুছিয়ে হচ্ছে না, তখনই তাঁর রাগ প্রকাশ পেত। বিষয়টি নিজের স্বভাবের সঙ্গেও তুলনা করেছেন মিঠুন।
অর্থাৎ, নানার রাগকে শুধুমাত্র মেজাজের সমস্যা হিসেবে দেখছেন না তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু। বরং কাজের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা এবং সবকিছু সঠিকভাবে হওয়ার প্রত্যাশার সঙ্গেই সেই রাগের সম্পর্ক ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।
মিঠুনের কথায়, তিনিও এমন পরিস্থিতিতে রেগে যান। সবকিছু যদি ঠিকঠাক থাকে, তাহলে রাগ করার কারণই বা কী— এই যুক্তিতেই নানার স্বভাবকে ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।
সিনেমার বাইরেও ছিল গভীর বন্ধুত্ব
নানা পাটেকর এবং মিঠুন চক্রবর্তী একাধিক ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন। তবে তাঁদের সম্পর্ক শুধুমাত্র সহ-অভিনেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। মিঠুন জানিয়েছেন, তাঁদের বন্ধুত্ব সিনেমার গণ্ডি ছাড়িয়ে ব্যক্তিগত জীবনেও বিস্তৃত ছিল।
প্রয়াত বন্ধুকে স্মরণ করে মিঠুনের বক্তব্যে তাই শুধু একজন সহকর্মীর প্রতি শ্রদ্ধা নয়, বরং বহুদিনের বন্ধুকে হারানোর বেদনা স্পষ্ট। নানার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলেও জানিয়েছেন তিনি।
‘নানা বহু মানুষকে সাহায্য করতেন’
নানার ‘রাগী’ ভাবমূর্তির পাশাপাশি তাঁর মানবিক দিকটিও সামনে এনেছেন মিঠুন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নানা বহু মানুষকে সাহায্য করতেন। সাধারণ জীবনযাপন করতেন এবং নিজের মতো করে থাকতেই পছন্দ করতেন।
ফলে পর্দায় বা সংবাদমাধ্যমে যে তীব্র ব্যক্তিত্বের ছবি অনেক সময় সামনে এসেছে, তার বাইরেও নানার জীবনের একটি আলাদা দিক ছিল বলে জানালেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
প্রয়াণে স্তব্ধ বলিউড
৭৫ বছর বয়সে বৃহস্পতিবার প্রয়াত হয়েছেন নানা পাটেকর। গোয়ায় নিজের বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হয়নি। হাসপাতাল সূত্রে তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কথা জানানো হয়েছে।
নানার প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বলিউডের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্টরা শোকপ্রকাশ করছেন। তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং দীর্ঘ কর্মজীবনের স্মৃতি ফিরে আসছে নানা মহলে।
মিঠুনের বক্তব্যে সেই স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত হল আরও ব্যক্তিগত একটি অধ্যায়। যে মানুষটিকে বাইরে থেকে অনেকেই ‘রাগী’ বলে চিনতেন, কাছের বন্ধু মিঠুনের স্মৃতিতে সেই নানা ছিলেন সরল, সাহায্যপ্রবণ এবং বন্ধুত্বে গভীর এক মানুষ।
নানার প্রয়াণের পর তাঁর অভিনয় নিয়ে আলোচনা যেমন চলছে, তেমনই সামনে আসছে তাঁর ব্যক্তিজীবনের নানা অজানা বা কম আলোচিত দিক। মিঠুনের কথায় নানার ‘রাগ’-এর যে ব্যাখ্যা উঠে এল, সেটিও সেই স্মৃতিরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকল।



