কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ঐতিহাসিক ম্যাচ। পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ফ্রেন্ডলিতে এখনও পর্যন্ত ৩-০ গোলে পিছিয়ে ভারত। ম্যাচের ৭০ মিনিটে এসে ব্রাজিলের দখলে বলের নিয়ন্ত্রণ ৬৪ শতাংশ, ভারতের ৩৬ শতাংশ। পরিসংখ্যানেও পরিষ্কার ব্যবধান—ব্রাজিল ১৪টি শট নিয়েছে, যার মধ্যে ৫টি লক্ষ্যে। ভারতের শট মাত্র ৮টি, লক্ষ্যে ৩টি।
ম্যাচের শুরু থেকেই ব্রাজিল বলের দখল নিজেদের হাতে রাখার চেষ্টা করেছে। ভারতের রক্ষণকে চাপে ফেলে একের পর এক আক্রমণ তৈরি করেছে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, এস্তেভাও, পেদ্রোদের দল। তবে প্রথম ২০ মিনিটে ভারতও কয়েকটি আক্রমণের চেষ্টা করে। আনিরুদ্ধ থাপার কর্নার থেকে ভারত সুযোগ তৈরির চেষ্টা করেছে।
২৮ মিনিটে প্রথম ধাক্কা আসে। ব্রাজিলের হয়ে গোল করেন এস্তেভাও। ম্যাচের প্রথম গোলের পর থেকেই ব্রাজিলের আক্রমণের ধার আরও বাড়তে থাকে। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে তারা।
৪২ মিনিটে ব্রাজিলের দ্বিতীয় গোলটি করেন পেদ্রো। ফলে বিরতিতে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের লাইভ তথ্যেও এই দুই গোলের সময় যথাক্রমে ২৮ ও ৪২ মিনিট হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।
দ্বিতীয়ার্ধে একাধিক পরিবর্তন করে মাঠে নামে দুই দলই। ব্রাজিলের হয়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জায়গায় স্যামুয়েল লিনো মাঠে নামেন। ভারতও গোলের ব্যবধান কমানোর লক্ষ্যে একাধিক পরিবর্তন করে।
কিন্তু ভারত ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই তৃতীয় গোল। ৫৮ মিনিটে ব্রাজিলের হয়ে গোল করেন স্যামুয়েল লিনো। ফলে ৬০ মিনিটের সামান্য পরেই ম্যাচের স্কোরলাইন দাঁড়ায় ভারত ০, ব্রাজিল ৩।
৭০ মিনিটের পরিসংখ্যান বলছে, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ মূলত ব্রাজিলের হাতেই। ব্রাজিলের বল পজিশন ৬৪ শতাংশ, ভারতের ৩৬ শতাংশ। গোলের সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রেও এগিয়ে ব্রাজিল। তাদের মোট শট ১৩-১৪টির কাছাকাছি, ভারতের ৮টি। লক্ষ্যে ব্রাজিলের শট ৫টি, ভারতের ৩টি।
তবে ভারত পুরোপুরি আক্রমণহীন নয়। কর্নার কিকের পরিসংখ্যানে বরং ভারত সামান্য এগিয়ে—ভারতের ৬টি কর্নারের বিপরীতে ব্রাজিলের ৫টি। ম্যাচের প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে থাপার নেওয়া কর্নার থেকে ভারত আক্রমণ সাজানোর চেষ্টা করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এটি ভারতের সিনিয়র পুরুষ দলের বিরুদ্ধে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচ। ম্যাচটির আগে ব্রাজিল ছিল FIFA র্যাঙ্কিংয়ে পঞ্চম এবং ভারত ১৩৮ নম্বরে। AIFF-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯২ সালে FIFA র্যাঙ্কিং চালু হওয়ার পর এত উচ্চ র্যাঙ্কিংয়ের কোনও দলের বিরুদ্ধে ভারত এর আগে খেলেনি।
কলকাতায় এই ম্যাচ ঘিরে উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। ব্রাজিল দলের কলকাতা সফর এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, মারকুইনোসদের উপস্থিতি ঘিরে ম্যাচের আগে থেকেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তির কাছেও ম্যাচটি ছিল দলের কয়েকজন খেলোয়াড়কে পরখ করার সুযোগ।
এখন ভারতের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ ব্যবধান কমানো এবং ম্যাচের শেষ মুহূর্তগুলিতে রক্ষণ সামলে রাখা। ৭০ মিনিটে স্কোরলাইন ভারত ০-৩ ব্রাজিল। ব্রাজিলের তিন গোল এসেছে এস্তেভাও (২৮’), পেদ্রো (৪২’) এবং স্যামুয়েল লিনোর (৫৮’) পা থেকে।



