শতরান থেকে মাত্র আট রান দূরে থামতে হয়েছে রোহিত শর্মাকে। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে নিউ চণ্ডীগড়ে শনিবার তাঁর ৯২ রানের ইনিংসই ভারতীয় ক্রিকেটে তৈরি করল নতুন ইতিহাস। ওপেনার হিসেবে দ্রুততম ১০ হাজার ODI রান পূর্ণ করে ২২ বছর আগের সচিন তেন্ডুলকরের রেকর্ড নিজের নামে করে নিলেন রোহিত।
এই মাইলফলকে পৌঁছতে রোহিতের প্রয়োজন হয়েছে মাত্র ২০২টি ইনিংস। সচিন তেন্ডুলকর ২০০৪ সালে ওপেনার হিসেবে ১০ হাজার রান পূর্ণ করেছিলেন ২১৪ ইনিংসে। অর্থাৎ, ১২ ইনিংস আগেই সেই নজির ভেঙে দিলেন রোহিত।
ম্যাচের তৃতীয় বলেই ১০ হাজার
ম্যাচ শুরুর আগে রোহিতের প্রয়োজন ছিল মাত্র ২ রান। জেডন সিলসের করা ইনিংসের তৃতীয় বলেই সেই অপেক্ষার অবসান হয়। বলটি ক্লিপ করে দু’রান নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ওপেনার হিসেবে ১০ হাজার ODI রানের ক্লাবে ঢুকে পড়েন তিনি।
এই মাইলফলকে পৌঁছে রোহিত এখন এক দিনের ক্রিকেটে ওপেনার হিসেবে ১০ হাজার বা তার বেশি রান করা চতুর্থ ব্যাটার। তাঁর আগে এই তালিকায় রয়েছেন সচিন তেন্ডুলকর, শ্রীলঙ্কার সনৎ জয়সূর্য এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল।
ওপেনার হিসেবে সর্বাধিক রানের রেকর্ড এখনও সচিনের দখলে। ৩৪০টি ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ ১৫,৩১০ রান। জয়সূর্যার ৩৮৩ ইনিংসে ১২,৭৪০ রান এবং ক্রিস গেইলের ২৭৪ ইনিংসে ১০,১৭৯ রান।
২২ বছর পর সচিনের রেকর্ড ছাপিয়ে গেলেন রোহিত
২০০৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ব্রিসবেনে ওপেন করতে নেমে ১০ হাজার রান পূর্ণ করেছিলেন সচিন। সেই সময় ২১৪টি ইনিংস লেগেছিল ভারতীয় কিংবদন্তির। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অক্ষত থাকা সেই রেকর্ড এবার ভেঙে গেল রোহিতের ব্যাটে।
২০২টি ইনিংসেই ১০ হাজার রান পূর্ণ করে নতুন নজির গড়লেন ভারতীয় ওপেনার। ফলে একই মাইলফলকে পৌঁছতে সচিনের তুলনায় রোহিতের ১২টি ইনিংস কম লেগেছে।
রোহিতের এই রেকর্ডের সময়কালটিও উল্লেখযোগ্য। ২০২৭ সালের ODI বিশ্বকাপে তাঁর খেলা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা রয়েছে। বয়স এবং ফিটনেস নিয়ে নানা প্রশ্নের মধ্যেও ব্যাট হাতে ধারাবাহিকভাবে বড় মাইলফলক ছুঁয়ে চলেছেন তিনি।
চলতি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেই এর আগে আরও একটি বড় কীর্তি গড়েছিলেন রোহিত। সিরিজের দ্বিতীয় ODI-তে ৭৫ বলে ১০১ রান করেছিলেন তিনি। সেই ইনিংসের সুবাদে এক দিনের ক্রিকেটে ১২ হাজার রান পূর্ণ করেন ভারতীয় ওপেনার।
সচিন তেন্ডুলকর এবং বিরাট কোহলির পর তৃতীয় ভারতীয় ব্যাটার হিসেবে এই কীর্তি গড়েছিলেন রোহিত। অর্থাৎ একই সিরিজে পরপর দুই ম্যাচে তাঁর নামের পাশে যোগ হল দুটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।
নিউ চণ্ডীগড়ের তৃতীয় ODI-তে ৮৫ বল খেলেন রোহিত। তাঁর ৯২ রানের ইনিংস সাজানো ছিল ১০টি চার এবং তিনটি ছক্কায়। শতরানের দিকে এগোলেও শেষ পর্যন্ত সেই মাইলফলক ছোঁয়া হয়নি।
ভারতের শুরুটা অবশ্য ভালো ছিল না। অধিনায়ক শুবমন গিল মাত্র ১ রান করে ফিরে যান। এরপর বিরাট কোহলিও কোনও রান না করেই আউট হন। সেই পরিস্থিতিতে রোহিতের ব্যাটই ভারতীয় ইনিংসকে সামলানোর দায়িত্ব নেয়।
ঋতুরাজ গায়কোয়াড়ের সঙ্গে রোহিতের ১৩৭ রানের জুটি ভারতকে ম্যাচে শক্ত ভিত তৈরি করে দেয়। রোহিত ব্যক্তিগত শতরান হাতছাড়া করলেও তাঁর ইনিংসের গুরুত্ব কমেনি। বরং ৯২ রানেই সচিনের দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস লিখে ফেললেন তিনি।
আর এই ম্যাচের ছবিটা আরও বড় হয়ে উঠেছে কেএল রাহুলের শতরানে। রোহিতের রেকর্ডের পাশাপাশি তাঁর সেঞ্চুরিও ভারতের ইনিংসকে আরও শক্তিশালী জায়গায় পৌঁছে দেয়। অর্থাৎ এক ম্যাচেই ভারতীয় ব্যাটিংয়ের দুই বড় নামের ব্যাটে তৈরি হল দুটি উল্লেখযোগ্য গল্প।



