আগামীকালের আবহাওয়া কেমন থাকবে? বড় প্রশ্ন ঘূর্ণিঝড় ঘিরে! কী বলছে IMD

৪ অক্টোবর কলকাতা-সহ বাংলার আবহাওয়া কেমন থাকবে? দক্ষিণবঙ্গে আপাতত কোনও সতর্কতা নেই, উত্তরবঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

আগামীকালের আবহাওয়া: পুজোর আগে বাংলার আকাশ নিয়ে ফের কৌতূহল তৈরি হয়েছে। একদিকে সদ্য বিদায় নেওয়া বর্ষায় বৃষ্টির বড় ঘাটতি, অন্যদিকে এল নিনো ও সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় নিয়ে আবহবিদদের আলোচনা। তার মধ্যেই রবিবার, ৪ অক্টোবর কলকাতা-সহ বাংলার আবহাওয়া কেমন থাকবে, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন সাধারণ মানুষ। আপাতত ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসে বড় কোনও দুর্যোগের সতর্কতা নেই। তবে উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

৩ অক্টোবর প্রকাশিত IMD-এর আঞ্চলিক সতর্কতা অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে কোনও সতর্কতা জারি করা হয়নি। ৪ অক্টোবর পর্যন্ত সাত দিনের সতর্কতা তালিকাতেও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের জন্য ‘No Warning’ দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জন্য আগামীকাল ভারী বৃষ্টি, অতি ভারী বৃষ্টি বা ঝড়ের কোনও বিশেষ সতর্কতা আপাতত নেই।

কলকাতার বর্তমান পরিস্থিতিতেও বড় কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই। শনিবার আলিপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নয়, বরং সকাল ৮টা ৩০ মিনিটের পর্যবেক্ষণে তাপমাত্রা ছিল ৩০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৮৩ শতাংশ। দমদমে তাপমাত্রা ছিল ৩১ ডিগ্রি। ফলে আগামীকাল বৃষ্টি না হলেও আর্দ্রতার কারণে ভ্যাপসা অস্বস্তি থাকতে পারে।

তবে উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। IMD জানিয়েছে, ৪ অক্টোবর সাব-হিমালয়ান পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমে বজ্রবিদ্যুৎ, বজ্রপাত এবং ঝোড়ো হাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ৫ অক্টোবর থেকে ওই অঞ্চলের জন্যও কোনও সতর্কতা থাকছে না।

দক্ষিণবঙ্গের ক্ষেত্রে তাই আপাতত ছবিটা অনেকটাই স্বস্তির। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা-সহ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলির জন্য ৪ অক্টোবর কোনও বিশেষ সতর্কতা নেই। তবে অক্টোবরের শুরুতে স্থানীয় মেঘ তৈরি হয়ে বিচ্ছিন্ন বৃষ্টির সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। নির্দিষ্ট কোনও জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়ে শেষ মুহূর্তের পূর্বাভাস বদলালে তা আলাদা করে নজরে রাখতে হবে।

কিন্তু আগামীকালের আবহাওয়ার থেকেও বড় প্রশ্ন এখন পুজোর সময় ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা নিয়ে। কারণ এ বছর বর্ষার চরিত্র নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আনন্দবাজারের প্রকাশিত বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু এ বছর ১২.৬ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি নিয়ে বিদায় নিয়েছে। ২০০১ সালের পর এত বড় ঘাটতি ফের দেখা গেল বলেও ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এল নিনোর প্রভাব নিয়েও আলোচনা রয়েছে। ওই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এল নিনো ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী হলে ভারতে তুলনামূলক উষ্ণ ও শুষ্ক শীতের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে কৃষি ও রবিশস্যের উপর। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনকেও চলতি বছরের অস্বাভাবিক বৃষ্টির চরিত্রের অন্যতম কারণ হিসেবে আবহবিদদের তরফে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এখানেই একটি বিষয় স্পষ্ট করে দেওয়া জরুরি। এল নিনো বা বঙ্গোপসাগরে ভবিষ্যতে ঘূর্ণিঝড় তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনা আর আগামীকালের নির্দিষ্ট আবহাওয়ার পূর্বাভাস এক বিষয় নয়। ৪ অক্টোবরের জন্য IMD-এর প্রকাশিত সতর্কতায় গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ঘূর্ণিঝড় বা ভারী বৃষ্টির কোনও সতর্কতা নেই। তাই এখনই পুজোর সময় ঘূর্ণিঝড় আসছে—এমন কোনও নিশ্চিত পূর্বাভাস দেওয়ার মতো তথ্য নেই।

ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা বাস্তব রূপ নিতে হলে বঙ্গোপসাগরে প্রথমে নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্তের মতো নির্দিষ্ট আবহাওয়া ব্যবস্থা তৈরি হওয়া, তার অবস্থান ও শক্তি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া এবং তার গতিপথের পূর্বাভাস প্রয়োজন। সেই ধরনের নির্দিষ্ট পরিস্থিতি তৈরি হলে IMD-এর বুলেটিনেই তার বিস্তারিত ছবি পাওয়া যাবে।

অতএব, ৪ অক্টোবরের আগামীকালের আবহাওয়া নিয়ে কলকাতা ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে আপাতত বড় কোনও বিপদের সংকেত নেই। উত্তরবঙ্গের হিমালয় সংলগ্ন এলাকায় অবশ্য বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর পুজোর সময় ঘূর্ণিঝড়ের প্রশ্নে এখনই নিশ্চিত হওয়ার সময় আসেনি—পরবর্তী কয়েক দিনের বঙ্গোপসাগরের পরিস্থিতিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

পুজোর মরশুম যত এগোবে, তাই নজর থাকবে দু’দিকে—একদিকে স্থানীয় আবহাওয়া, অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরে নতুন কোনও নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হচ্ছে কি না। আপাতত ৪ অক্টোবরের জন্য কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গ স্বস্তিতে, কিন্তু পুজোর দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার ছবি এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন