যুবভারতীতে সাম্বা ঝড়! ভারতকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিল ব্রাজিল, জোড়া গোল লিনোর

এস্তেভাও ও পেদ্রোর প্রথমার্ধের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর স্যামুয়েল লিনোর জোড়া গোলে ৪-০ জয় ব্রাজিলের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কলকাতা: ইতিহাসের মঞ্চ তৈরি হয়েছিল কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। কিন্তু সেই মঞ্চে পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের সামনে দাঁড়িয়ে লড়াইটা শেষ পর্যন্ত কঠিনই হয়ে উঠল ভারতের জন্য। আন্তর্জাতিক ফ্রেন্ডলিতে ৪-০ গোলে ভারতকে হারাল ব্রাজিল। এস্তেভাও, পেদ্রো এবং স্যামুয়েল লিনোর গোলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ শুরু থেকেই নিজেদের হাতে রেখেছিল কার্লো আনচেলত্তির দল। শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগে ৯০+৫ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ভারতের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন স্যামুয়েল লিনো।

ম্যাচের শুরুতে অবশ্য ভারত কিছুটা সংগঠিত ফুটবল খেলার চেষ্টা করেছিল। প্রথম ২০ মিনিটে ব্রাজিলের আক্রমণ সামলে রেখে সুযোগ খুঁজছিলেন মনবীর সিংহ, রায়ান উইলিয়ামসরা। ২২ মিনিটের মাথায় গোলের সুযোগও পেয়েছিল ভারত। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি তারা। অন্য দিকে, ব্রাজিল ধীরে ধীরে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভারতের রক্ষণে চাপ বাড়াতে থাকে।

২৮ মিনিটে প্রথম ধাক্কা আসে। ডান দিক থেকে এস্তেভাও ভারতের বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের শটে বল জালে জড়িয়ে দেন। ভারতের গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিংহ সান্ধু সেই শটটি আটকাতে পারেননি। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল।

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভারত বনাম ব্রাজিল ফুটবল ম্যাচ
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভারত বনাম ব্রাজিল ফুটবল ম্যাচ

প্রথম গোলের পরেও ভারতের সমস্যা কাটেনি। ৪২ মিনিটে ফের গোল করে ব্রাজিল। এ বার গোলদাতা পেদ্রো। এস্তেভাওর বাড়ানো বল পেয়ে বক্সের মধ্যে যথেষ্ট সময় পান পেদ্রো। তাঁর শটও গুরপ্রীতের হাত ফস্কে জালে ঢুকে যায়। বিরতিতে ২-০ গোলে পিছিয়ে মাঠ ছাড়ে ভারত।

দ্বিতীয়ার্ধে ভারত কিছুটা আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করেছিল। ৫৪ মিনিটে রায়ান উইলিয়ামসের শট ব্রাজিলের গোলরক্ষক সহজেই সামলে নেন। তার পরেই মনবীর সিংহের আরও একটি চেষ্টা আটকে দেন ব্রাজিলের গোলরক্ষক। মনে হচ্ছিল, ব্যবধান কমানোর একটা সুযোগ হয়তো তৈরি করতে পারবে ভারত।

কিন্তু তার পরেই ফের ধাক্কা। ৫৮ মিনিটে ভারতের রক্ষণে ভুলের সুযোগ নিয়ে তৃতীয় গোল করেন স্যামুয়েল লিনো। বিজয় ভার্গিসের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে সুযোগ কাজে লাগান ব্রাজিলের আক্রমণভাগের এই ফুটবলার। প্রভসুখন সিংহ গিলকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠিয়ে দেন তিনি। ভারত ০-৩ ব্রাজিল।

তৃতীয় গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কার্যত পুরোপুরি ব্রাজিলের হাতে চলে যায়। ভারতের সামনে তখন মূল লক্ষ্য ছিল অন্তত ব্যবধান কমানো। ৬৭ মিনিটে মনবীরের পাস থেকে রায়ান উইলিয়ামসের সামনে ফের সুযোগ আসে। তাঁর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তার কিছুক্ষণ আগেই ভারতের একটি প্রচেষ্টা গোললাইন থেকে বাঁচিয়ে দেন ব্রাজিলের ডিফেন্ডাররা।

শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৯০ মিনিটেও আর গোল হয়নি। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে আবারও ভারতের রক্ষণ ভেঙে দেন স্যামুয়েল লিনো। ৯০+৫ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচের স্কোর ৪-০ করে দেন তিনি। ফলে কলকাতার মাঠে ব্রাজিলের কাছে বড় ব্যবধানে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় ভারতকে।

পরিসংখ্যানেও দুই দলের ব্যবধান স্পষ্ট। ব্রাজিলের দখলে ছিল ৬৬ শতাংশ বল, ভারতের ৩৪ শতাংশ। ব্রাজিল মোট ২০টি শট নেয়, ভারতের ৯টি। লক্ষ্যে ব্রাজিলের শট ৭টি, ভারতের ৩টি। কর্নারেও এগিয়ে ছিল ব্রাজিল—৮টির বিপরীতে ভারত পেয়েছে ৬টি। ভারতের গোলরক্ষকদের মোট তিনটি সেভের প্রয়োজন হয়, ব্রাজিলের গোলরক্ষককে করতে হয় দু’টি সেভ।

এই ম্যাচটি শুধু ফলাফলের দিক থেকেই নয়, ভারতীয় ফুটবলের জন্য অভিজ্ঞতার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। ব্রাজিলের মতো বিশ্বমানের দলের বিরুদ্ধে নিজেদের পরীক্ষা করার সুযোগ খুব একটা আসে না। তার উপর কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এই ম্যাচ ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। ম্যাচটি ছিল দুই দেশের সিনিয়র পুরুষ জাতীয় দলের প্রথম সাক্ষাৎও।

ভারতের জন্য এই ম্যাচের ফল নিঃসন্দেহে হতাশার। তবে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে এমন ম্যাচ থেকে রক্ষণ, বলের দখল এবং আক্রমণ তৈরির ক্ষেত্রে কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তার একটা পরিষ্কার ছবি পাওয়া গেল। অন্য দিকে, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে আগের ম্যাচগুলিতে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে কলকাতাতেও দাপুটে জয় পেল আনচেলত্তির ব্রাজিল।

শেষ পর্যন্ত স্কোরলাইন: ভারত ০-৪ ব্রাজিল। এস্তেভাও ২৮ মিনিটে, পেদ্রো ৪২ মিনিটে এবং স্যামুয়েল লিনো ৫৮ ও ৯০+৫ মিনিটে গোল করেন। কলকাতার রাতটা তাই শেষ হল পুরোপুরি সাম্বার ছন্দে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন