সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ২০২৬-২৭ সালের পুনর্গঠনে তৃণমূল কংগ্রেসের হাতছাড়া হল দুটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটির চেয়ারম্যানের পদ। বাণিজ্য বিষয়ক সংসদীয় কমিটির (Parliamentary Committee on Commerce) চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানো হয়েছে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেনকে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদী। একই সঙ্গে রাসায়নিক ও সার বিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান পদে কীর্তি আজাদের জায়গায় বসানো হয়েছে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে।
শনিবার সংসদীয় কমিটিগুলির পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণণের নেতৃত্বে এই পুনর্গঠন হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় ২৪টি বিভাগীয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। কমিটিগুলির নতুন কাঠামো ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে বলে সংসদীয় বুলেটিনের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
দোলা সেনের জায়গায় বাণিজ্য বিষয়ক কমিটির দায়িত্ব পেয়েছেন সুধাংশু ত্রিবেদী। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নীতি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সংসদীয় পর্যালোচনার দায়িত্ব এখন বিজেপির সাংসদের হাতে গেল। অন্য দিকে, রাসায়নিক ও সার বিষয়ক কমিটিতে কীর্তি আজাদের জায়গায় চেয়ারম্যান করা হয়েছে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে।
কাকলির ক্ষেত্রে অবশ্য বিষয়টি কিছুটা আলাদা। ২০২৬ সালে তৃণমূলের সঙ্গে রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরি হওয়ার পর তিনি বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে যুক্ত হন। পরে ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-র সঙ্গে যুক্ত হন। নতুন সংসদীয় বিন্যাসে সেই দলের সাংসদ হিসেবেই রাসায়নিক ও সার বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি।
অর্থাৎ, দুই কমিটির ক্ষেত্রেই পরিবর্তনটি শুধু ব্যক্তি বদলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাণিজ্য কমিটিতে তৃণমূল সাংসদ দোলা সেনের জায়গায় এসেছেন বিজেপির সুধাংশু ত্রিবেদী। রাসায়নিক ও সার কমিটিতে তৃণমূলের কীর্তি আজাদের জায়গায় এসেছেন তৃণমূলের প্রাক্তন নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার।
তবে সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান পদে বিরোধী দলগুলির প্রতিনিধিত্ব পুরোপুরি বাদ পড়েনি। কংগ্রেসের শশী থারুর বিদেশ বিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান পদে বহাল রয়েছেন। কৃষি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও কংগ্রেসের চরণজিৎ সিংহ চান্নিকে রাখা হয়েছে। কংগ্রেসের মুকুল ওয়াসনিকও শিক্ষা, মহিলা, শিশু, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক কমিটির দায়িত্বে রয়েছেন।
সমাজবাদী পার্টির রামগোপাল যাদব স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন। ডিএমকের তিরুচি শিবা শিল্প বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান পদে এবং কানিমোঝি করুণানিধি উপভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবণ্টন সংক্রান্ত কমিটির দায়িত্বে রয়েছেন। বিজেপির অনুরাগ ঠাকুর কয়লা, খনি ও ইস্পাত বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান পদে বহাল রয়েছেন।
এ ছাড়া যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিশিকান্ত দুবে, অর্থ বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে ভর্তহরি মাহতাব এবং জলসম্পদ বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে রাজীবপ্রতাপ রুডি দায়িত্বে রয়েছেন। রেল বিষয়ক কমিটিতে সি এম রমেশের জায়গায় চেয়ারম্যান করা হয়েছে বিজেপির সুধীর গুপ্তকে।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক ও বিভাগের কাজ, নীতি, বাজেট প্রস্তাব এবং বিভিন্ন আইন ও সরকারি পদক্ষেপ পর্যালোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। লোকসভার সরকারি ওয়েবসাইটেও বিভাগীয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলির পৃথক কাঠামো ও কাজের তথ্য দেওয়া রয়েছে।
ফলে ২০২৬-২৭ সালের নতুন বিন্যাসে তৃণমূলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দুটি—বাণিজ্য কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে দোলা সেনের অপসারণ এবং রাসায়নিক ও সার কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে কীর্তি আজাদের পরিবর্তে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দায়িত্ব গ্রহণ।



