জ্ঞানেশ-বিরোধী বিক্ষোভে দিল্লিতে আটক ১১০০, অতিশীকে টানতে টানতে নিয়ে গেল পুলিশ

জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা, অতিশী-সহ একাধিক নেতা-নেত্রী ও শত শত বিক্ষোভকারী আটক

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে গান্ধী জয়ন্তীর দিনেই দিল্লির যন্তর মন্তরে বড়সড় বিক্ষোভ। পুলিশের অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও জমায়েত ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। প্রাক্তন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অতিশী, AAP সাংসদ সঞ্জয় সিং, AAP নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ, AISA নেত্রী নেহা বোরা এবং CPI(M) নেত্রী বৃন্দা কারাট-সহ বহু রাজনৈতিক নেতা, ছাত্র ও সমাজকর্মীকে আটক করা হয়েছে। সর্বশেষ পাওয়া আপডেটে আটক ব্যক্তির সংখ্যা ১১০০ বলে দাবি করা হয়েছে। তবে দিল্লি পুলিশের তরফে প্রকাশিত বিভিন্ন সময়ের তথ্যে সংখ্যার হেরফের রয়েছে।

জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল ছাত্র, যুব ও নাগরিক সমাজের একাধিক সংগঠন। SIR বা ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি তোলা হয়। কর্মসূচিতে AAP-এর পাশাপাশি AISA, SFI, NSUI-সহ একাধিক সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।

তবে বিক্ষোভের আগে থেকেই দিল্লি পুলিশ জানিয়ে দিয়েছিল, যন্তর মন্তরে এই কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি। নিউ দিল্লি এলাকায় BNSS-এর ১৬৩ ধারা জারি করা হয়। অনুমতি ছাড়া জমায়েত, মিছিল ও বিক্ষোভ ঠেকাতে যন্তর মন্তর এবং আশপাশের এলাকায় ব্যাপক পুলিশি ব্যবস্থা করা হয়।

সকাল থেকেই যন্তর মন্তরের দিকে বিক্ষোভকারীরা আসতে শুরু করেন। পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাঁদের আটকে দেয়। সেখানেই শুরু হয় ধস্তাধস্তি। AAP নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ এবং সঞ্জীব ঝা-সহ দলের একাধিক নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়। পরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অতিশীও বিক্ষোভস্থলে পৌঁছন। তাঁকেও পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়।

বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন AAP সাংসদ সঞ্জয় সিংও। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলে এবং SIR নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি প্রতিবাদ করেন। তাঁকেও পুলিশ আটক করে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে AISA-র জাতীয় সভাপতি নেহা বোরাকেও আটক করা হয়।

বাম শিবির থেকেও বিক্ষোভে যোগ দেন নেতারা। CPI(M)-এর নেত্রী বৃন্দা কারাট-সহ দলের একাধিক নেতা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। SIR-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁদের আপত্তি রয়েছে। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন এবং নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লির কেন্দ্রীয় অংশে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল নজিরবিহীন। যন্তর মন্তর, সংসদ ভবন সংলগ্ন এলাকা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। একাধিক রাস্তায় ব্যারিকেড বসিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

শুধু রাস্তায় নয়, মেট্রো পরিষেবাতেও প্রভাব পড়ে। বিক্ষোভের আগে নিউ দিল্লি এলাকার ১১টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বহির্গমন বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাজীব চক, মাণ্ডি হাউস, নিউ দিল্লি এবং সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েটের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিতে ইন্টারচেঞ্জ সুবিধা চালু রাখা হলেও সাধারণ প্রবেশ-প্রস্থান বন্ধ ছিল।

যন্তর মন্তর ও সংলগ্ন এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখার খবরও সামনে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অনুমতিহীন জমায়েত আটকাতেই এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আটকের সংখ্যা নিয়ে অবশ্য দিনের বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গিয়েছে। প্রথম দিকের রিপোর্টে কয়েকশো আটকের কথা বলা হয়। পরে PTI-কে উদ্ধৃত করে NDTV জানায়, যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ৭০০ জনকে আটক করা হয়েছে। The Week-ও ৭০০-র বেশি আটকের কথা জানিয়েছে।

এর পর সংবাদ প্রতিদিনের সর্বশেষ আপডেটে আটক ব্যক্তির সংখ্যা ১১০০ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই হিসাব অনুযায়ী, অতিশী, নেহা বোরা, বৃন্দা কারাট-সহ মোট আটক ব্যক্তির সংখ্যা আরও বেড়েছে। ফলে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি এবং আটক সংক্রান্ত সরকারি চূড়ান্ত সংখ্যা সামনে এলে ছবিটি আরও স্পষ্ট হবে।

এদিকে দিল্লির পাশাপাশি দেশের অন্য শহরেও জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে CJP-র কর্মসূচির কথা রয়েছে। আন্দোলনকারীদের তরফে কলকাতা, বেঙ্গালুরু ও গোয়াতেও পরবর্তী পর্যায়ে কর্মসূচির কথা জানানো হয়েছে। Reuters-এর রিপোর্টেও দিল্লি ও মুম্বই-সহ বিভিন্ন জায়গায় জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

SIR এবং ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ যে ক্রমশ বাড়ছে, শুক্রবারের দিল্লির বিক্ষোভ তারই নতুন পর্ব। একদিকে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ ও পদত্যাগের দাবি, অন্যদিকে পুলিশের অনুমতি না দেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলার যুক্তি—দুইয়ের সংঘাতেই গান্ধী জয়ন্তীর দিন রাজধানীর কেন্দ্রীয় অংশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন