বঙ্গ বিজেপির সংগঠন আরও মজবুত করার বার্তা দিলেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। নতুন করে দলে কারা যোগ দিচ্ছেন, তাঁদের সম্পর্কে যথেষ্ট খোঁজখবর নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য জেলা নেতৃত্বকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং দলীয় কর্মীদের আচরণে নম্রতা বজায় রাখার উপরও জোর দিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন নিতিন নবীন। ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বরের দু’দিনের সফরে একাধিক সাংগঠনিক বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন তিনি। রবিবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর সাংগঠনিক নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
দলীয় সূত্রের খবর, নতুন করে বিজেপিতে যোগ দিতে আসা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নিতিন নবীন। জেলা সভাপতি, জেলা পদাধিকারী এবং জেলা নেতৃত্বকে এ বিষয়ে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে বলা হয়েছে। কারও রাজনৈতিক অতীত, দলের নীতি ও আদর্শের সঙ্গে তাঁর অবস্থান এবং সংগঠনে তাঁর ভূমিকা—এই বিষয়গুলি যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন দল থেকে নেতা-কর্মীদের বিজেপিতে যোগদানের ঘটনা সামনে এসেছে। একই সঙ্গে দলের নীতি বা অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন ব্যক্তিদের যোগদান নিয়েও দলের অন্দরে প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই সংগঠনে নতুন মুখ অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে জেলা নেতৃত্বকে আরও সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
নিতিন নবীনের বৈঠকে শুধু সরকারের কাজকর্ম নয়, দলের সাংগঠনিক ভিত শক্তিশালী করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। বুথস্তর থেকে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দলের সাংগঠনিক কার্যকলাপ পর্যালোচনা, বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং তৃণমূল স্তরে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর। তাঁর দু’দিনের সফরের মূল লক্ষ্যগুলির মধ্যে সংগঠন পর্যালোচনা ও তৃণমূল স্তরে সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর বিষয়টি রয়েছে বলে আগেই জানানো হয়েছিল।
শুধু সংগঠনে নতুনদের প্রবেশ নয়, দলের নেতা-কর্মীদের আচরণ নিয়েও সতর্ক করেছেন নিতিন নবীন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় নম্র ও সংযত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা পদাধিকারী, জেলা ইনচার্জ, বিভিন্ন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং অন্যান্য সাংগঠনিক পদাধিকারীদের মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি তাঁদের সমস্যার কথা শোনার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
দলের সাংগঠনিক শক্তি অনেকটাই সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের উপর নির্ভর করে—এই বার্তাই বৈঠকে দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। ফলে সংগঠনের বিস্তারের পাশাপাশি কর্মীদের আচরণকেও গুরুত্ব দিতে চাইছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
নিতিন নবীনের বঙ্গ সফরে রাজ্য নেতৃত্ব, জেলা সভাপতি, সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্তদের পাশাপাশি সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গেও একাধিক বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। দলীয় সংগঠন, নির্বাচিত প্রতিনিধি ও বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
সফরের দ্বিতীয় দিনে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে ‘আঙন কা মিলন’ কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির। এরপর যুব নেতৃত্বের সঙ্গে ‘যুব সংবাদ কনক্লেভ’-এ অংশ নেবেন তিনি। অর্থাৎ সাংগঠনিক পর্যালোচনার পাশাপাশি সাধারণ কর্মী, সমাজের বিভিন্ন অংশ এবং যুবদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে এই সফরে।



