দুর্গাপুজোর আবহেই ফের ভোটের দামামা বাংলায়। রাজ্যসভা থেকে কোয়েল মল্লিকের ইস্তফার পর খালি হওয়া পশ্চিমবঙ্গের আসনে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ভোটগ্রহণ হবে এবং সেদিনই গণনা করে ফল প্রকাশ করা হবে। কোয়েল মল্লিক (Koel Mallick) ১৬ জুলাই রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, এই উপনির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৬ অক্টোবর। ৭ অক্টোবর হবে মনোনয়নপত্র পরীক্ষা বা স্ক্রুটিনি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৮ অক্টোবর। ভোট হলে ১৬ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। এরপর বিকেল ৫টা থেকে শুরু হবে ভোটগণনা।
অর্থাৎ দুর্গাপুজোর মধ্যেই রাজ্যসভা উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে উঠতে পারে। ১৬ অক্টোবর ২০২৬ পড়েছে শুক্রবার। সেই দিনই ভোটগ্রহণের পাশাপাশি ফলও জানা যাবে। নির্বাচন প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সম্পূর্ণ করার কথা রয়েছে।
কোয়েল মল্লিক চলতি বছরের এপ্রিলেই রাজ্যসভায় যান। তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)-এর প্রার্থী হিসেবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই, ১৬ জুলাই রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।
কোয়েলের ইস্তফার পরই তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। পদত্যাগের পর বিজেপির (Bharatiya Janata Party) কেন্দ্রীয় নেতা তথা বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ সেই জল্পনাকে আরও উসকে দেয়। তবে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে কোয়েল মল্লিকের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
এদিকে কোয়েলের ছেড়ে যাওয়া আসনে উপনির্বাচনের ফলের অঙ্ক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার দলীয় সমীকরণ বদলেছে। রাজ্যসভায় এই একটি আসনের নির্বাচনে বিধায়করা ভোট দেবেন। ফলে কোন দল কতগুলি আসন পেয়েছে এবং তাদের হাতে থাকা বিধায়কের সংখ্যা—সেটিই নির্বাচনী অঙ্কে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
তবে এই আসন বিজেপিরই হবে বা নির্দিষ্ট কোনও প্রার্থী জিতবেন, এমন সিদ্ধান্ত এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। প্রার্থী মনোনয়ন, প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা এবং ভোটের দিনের বিধায়ক-সমীকরণ সামনে আসার পরই ফলের সম্ভাব্য অঙ্ক স্পষ্ট হবে।
কোয়েল মল্লিকের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও তাই নতুন করে নজর রয়েছে। তাঁকে ঘিরে বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা তৈরি হলেও এখনও সেটি জল্পনাই। ফলে উপনির্বাচনে বিজেপি কাকে প্রার্থী করে, তৃণমূলের কৌশল কী হয় এবং অন্য কোনও দল প্রার্থী দেয় কি না—এই তিনটি বিষয় আগামী দিনের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।
রাজ্যসভা উপনির্বাচনের এই সূচি সামনে আসায় দুর্গাপুজোর মধ্যেই বাংলায় ফের রাজনৈতিক ব্যস্ততা বাড়তে চলেছে। ৬ অক্টোবর মনোনয়ন, ৭ অক্টোবর স্ক্রুটিনি, ৮ অক্টোবর প্রত্যাহার এবং ১৬ অক্টোবর ভোট ও গণনা—এই চারটি তারিখই এখন কোয়েল মল্লিকের ছেড়ে যাওয়া আসনের লড়াইয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।



