‘ক্যা হুয়া তেরা ওয়াদা’? খাদ্যসামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে মোদিকে নিশানা কংগ্রেসের

খাদ্যপণ্য, ডাল, রান্নার তেল ও মশলার দাম নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ কংগ্রেসের। জয়রাম রমেশের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধিতে চাপে পড়ছে সাধারণ পরিবারের বাজেট।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

খাদ্যপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করল কংগ্রেস। সোমবার কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ ‘ক্যা হুয়া তেরা ওয়াদা’ গানের প্রসঙ্গ টেনে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সরকারের অবস্থানকে প্রশ্ন করেন। তাঁর বক্তব্য, রান্নাঘরের একাধিক প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় সাধারণ পরিবারের বাজেটে চাপ তৈরি হচ্ছে।

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় জয়রাম রমেশ দাবি করেন, গত এক মাসে কয়েকটি মশলার দাম ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ছোট এলাচের দাম কেজিতে ৪,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ৪,৪০০ টাকা, বড় এলাচ ২,৪০০ থেকে ২,৮০০ টাকা এবং জিরে ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা হয়েছে। জয়ত্রী ২,৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩,০০০ টাকা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ডালের দাম নিয়েও কেন্দ্রকে আক্রমণ করেছে কংগ্রেস। রমেশের বক্তব্য অনুযায়ী, অড়হর ডাল কেজিতে ১০০ টাকা থেকে ১৩০ টাকা, ছোলার ডাল ৭০ থেকে ১০০ টাকা এবং উড়দ ডাল ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় পৌঁছেছে। সর্ষের তেল লিটারে ১৯০ টাকা থেকে ২১০ টাকা এবং সফোলা তেল ২৪০ টাকা থেকে ২৮০ টাকা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন।

পেঁয়াজের দামকেও তাঁর বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে কংগ্রেস। রমেশের দাবি, জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে সর্বভারতীয় গড় খুচরো দাম কেজিতে ২৯.৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৫৩.৭৮ টাকা হয়েছে—তাঁর হিসাব অনুযায়ী বৃদ্ধি ৮২.৩ শতাংশ। তবে এই নির্দিষ্ট পণ্যভিত্তিক দামের হিসাবগুলি কংগ্রেসের উদ্ধৃত তথ্য হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে, সরকারি মূল্যপরিসংখ্যান হিসেবে নয়।

মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগকে রাজনৈতিক আক্রমণের কেন্দ্রে রেখে রমেশ প্রশ্ন তোলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কেন নীরব। ‘আচ্ছে দিন’-এর প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ বাড়ছে, অথচ সরকারের তরফে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না—এমনটাই তাঁর অভিযোগ।

এই বক্তব্যের মাধ্যমে কংগ্রেস আসলে মূল্যবৃদ্ধিকে ফের জাতীয় রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে সামনে আনতে চাইছে। গত কয়েকদিন ধরেই দলের নেতারা খাদ্যপণ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ করছেন। ১৪ সেপ্টেম্বরও জয়রাম রমেশ মূল্যস্ফীতি ও পাইকারি দামের প্রসঙ্গ তুলে একই ধরনের প্রশ্ন তুলেছিলেন।

তবে মূল্যবৃদ্ধির সামগ্রিক পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে খুচরো ও পাইকারি মূল্যসূচক আলাদা বিষয়। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী CPI বা Consumer Price Index খুচরো স্তরে ভোক্তাদের মূল্যপরিবর্তন মাপে, আর WPI মূলত পাইকারি স্তরের দামের পরিবর্তন নির্দেশ করে। কেন্দ্রের সরকারি পরিসংখ্যান ব্যবস্থায় খাদ্যপণ্যের দামও CPI-র মাধ্যমে আলাদাভাবে পরিমাপ করা হয়।

সরকারি তথ্যের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলির উত্থাপিত পণ্যভিত্তিক দামের হিসাব তাই আলাদা করে যাচাই করা প্রয়োজন। এই প্রসঙ্গে কংগ্রেসের দাবি হল, রান্নার প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি সরাসরি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক খরচে প্রভাব ফেলছে। সেই কারণেই দ্রুত মূল্য নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন রমেশ।

‘ক্যা হুয়া তেরা ওয়াদা’ আসলে ১৯৭৭ সালের হিন্দি ছবি Hum Kisise Kum Nahin-এর জনপ্রিয় গান। সেই গানের পরিচিত লাইনকে রাজনৈতিক বক্তব্যে ব্যবহার করে মূল্যবৃদ্ধির প্রশ্নে কেন্দ্রকে আক্রমণ করাই এ দিনের কংগ্রেসের কৌশল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন