নিজেকে সুস্থ মনে হলেও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি? শরীরে লুকিয়ে থাকা ৪ বিপদ চিনুন

বাইরে থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ মনে হলেও শরীরে লুকিয়ে থাকতে পারে হৃদরোগের একাধিক ঝুঁকি। উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, রক্তে শর্করা ও ধূমপানের বিষয়ে কেন সতর্ক থাকা জরুরি জানুন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আগে সবসময় শরীরে স্পষ্ট কোনও সতর্কবার্তা দেখা যাবে, এমনটা নয়। অনেকেই নিয়মিত কাজকর্ম করেন, বাইরে থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক দেখান, অথচ শরীরে ধীরে ধীরে এমন কিছু পরিবর্তন ঘটতে পারে যা ভবিষ্যতে হৃদযন্ত্রের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়া, রক্তে শর্করা বেশি থাকা এবং ধূমপানের মতো কয়েকটি বিষয় দীর্ঘদিন নীরবে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপ

উচ্চ রক্তচাপকে অনেক সময় ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। কারণ, অনেকের ক্ষেত্রেই রক্তচাপ বেড়ে গেলেও কোনও স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না। দীর্ঘদিন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকলে রক্তনালির দেওয়ালে অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে এবং ধীরে ধীরে সেগুলির ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

রক্তনালির এই ক্ষতির সঙ্গে ধমনিতে প্লাক জমার প্রক্রিয়া যুক্ত হলে হৃদযন্ত্রে রক্ত চলাচলে বাধা তৈরি হতে পারে। এর ফলে হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই নিজেকে সুস্থ মনে হলেও নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।

কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়া

রক্তে এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকলে তা ধমনির দেওয়ালে জমে প্লাক তৈরি করতে পারে। সময়ের সঙ্গে সেই প্লাক বড় হলে রক্ত চলাচলের পথ সংকীর্ণ হয়ে যেতে পারে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে প্লাক ফেটে রক্ত জমাট বাঁধার পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে, যা হৃদযন্ত্রের রক্ত চলাচল বন্ধ করে দিতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, কোলেস্টেরল বেড়ে গেলেও অনেকের কোনও শারীরিক উপসর্গ থাকে না। তাই শুধু শরীর কেমন লাগছে তার উপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা করানো জরুরি।

রক্তে শর্করা বেশি থাকা

ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রেও সবসময় স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। দীর্ঘদিন রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে রক্তনালি ও হৃদ্‌যন্ত্রের উপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মতো অন্যান্য ঝুঁকিও থাকলে হৃদরোগের আশঙ্কা আরও বাড়তে পারে।

তাই রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে কি না, তা বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও অন্যান্য ঝুঁকির ভিত্তিতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করা দরকার।

ধূমপান

সিগারেট এবং অন্যান্য তামাকজাত পণ্য হৃদযন্ত্র ও রক্তনালির জন্য ক্ষতিকর। ধূমপান রক্তনালির ক্ষতি করতে পারে, রক্তে অক্সিজেন পরিবহণে প্রভাব ফেলতে পারে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

যাঁরা বর্তমানে ধূমপান করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ধূমপান ছাড়ার পদক্ষেপ হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আর যাঁরা আগে ধূমপান করতেন, তাঁরাও নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা এবং হৃদরোগের অন্যান্য ঝুঁকির বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।

কোন লক্ষণ দেখলে দ্রুত সতর্ক হবেন?

হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ সব মানুষের ক্ষেত্রে একরকম হয় না। বুকের মাঝখানে চাপ, চেপে ধরা বা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ঘাম, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা কিংবা অস্বস্তি হাত, পিঠ, ঘাড় বা চোয়ালের দিকে ছড়িয়ে পড়া—এগুলি সম্ভাব্য সতর্কসংকেত হতে পারে।

কখনও উপসর্গ তুলনামূলক হালকাও হতে পারে। তাই বুকের অস্বস্তি বা শ্বাসকষ্টকে শুধু গ্যাস বা অ্যাসিডিটি ভেবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে উপসর্গ তীব্র হলে বা কয়েক মিনিট ধরে থাকলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও রক্তে শর্করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান এড়ানো, নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা বজায় রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। নিজের শরীরকে সুস্থ মনে হলেও নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা অনেক সময় এমন ঝুঁকি চিহ্নিত করতে সাহায্য করে, যার কোনও দৃশ্যমান উপসর্গ এখনও তৈরি হয়নি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন