দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ানোর পর এবার নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন বাগেশ্বর বাবা ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী। তাঁর দাবি, বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। গ্লাসগোর এক অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “পুজোয় আমিষ খেতে বারণ করার আমি কে?” তবে মণ্ডপের কাছে মাছ-মাংস খাওয়া এবং পশুবলির বিরোধিতায় নিজের অবস্থানেই অনড় রয়েছেন তিনি।
স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী বলেন, ধর্মগুরু হিসেবে তিনি মূলত পশুবলির বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য, কেউ আমিষ খেলেও যেন দুর্গাপুজোর মণ্ডপের কাছে তা না খান। অর্থাৎ, ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাসের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানো তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না বলেই এবার দাবি করেছেন তিনি।
বাগেশ্বর বাবার কথায়, কিছু মানুষের তাঁর বক্তব্য পছন্দ হয়নি। কিন্তু তিনি যা বলতে চেয়েছিলেন, তার অন্যরকম ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাঁর আপত্তির মূল জায়গা ছিল পুজোমণ্ডপের আশপাশে আমিষ খাবার বিক্রি বা খাওয়া এবং পশুবলি।
তবে পশুবলির প্রশ্নে নিজের অবস্থান বদলাননি ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ। তাঁর বক্তব্য, শিব প্রতিটি জীবের মধ্যেই বিরাজমান। তাই শাস্ত্রের বক্তব্য নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন। পশুবলির বিরুদ্ধে তিনি যে আওয়াজ তুলেছেন, ভবিষ্যতেও তা চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।
বিতর্কের সূত্রপাত গত রবিবার। হাওড়ার লিলুয়ায় ‘হনুমান কথা’-র অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাগেশ্বর বাবা দুর্গাপুজোর মণ্ডপের পিছনে আমিষ খাবার তৈরি ও খাওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন। নবরাত্রির সময়ে এই ধরনের খাবার মণ্ডপের পাশে বিক্রি না করার আবেদন জানান তিনি।
সেই বক্তব্যেই পুজোর সময়ে আমিষ খাওয়া ব্যক্তিদের ‘পাখণ্ডী’ বা ভণ্ড বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। পাশাপাশি কলকাতার হিন্দুদের এই ধরনের পরিস্থিতির বিরুদ্ধে সরব হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁর মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই তা নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়।
পরিস্থিতি সামলাতে বঙ্গ বিজেপির নেতারাও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে শুরু করেন। বাগেশ্বর বাবার বক্তব্যের সরাসরি বিরোধিতা না করেও দলের একাধিক নেতা তাঁদের আমিষ খাওয়ার পছন্দের কথা প্রকাশ্যে জানান। তাতেও অবশ্য বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি।
এর মধ্যেই মঙ্গলবার ভবানীপুর থানার সামনে বাগেশ্বর বাবার ছবি পুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখান কংগ্রেসের একাংশের নেতা-কর্মীরা। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
এরপর আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়, প্রদীপ প্রসাদ-সহ কংগ্রেসের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে পুলিশ। প্রকাশ্যে হেনস্থা, শান্তিভঙ্গের চেষ্টা, ধর্ম-জাতি-ভাষার ভিত্তিতে গোষ্ঠীগুলির মধ্যে শত্রুতা তৈরি এবং ঘৃণা ছড়ানোর চেষ্টার মতো একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।
রাতেই কলকাতার ক্ষেত্রমোহন নস্কর লেনের বাড়ি থেকে দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অতনু সাহাকে গ্রেপ্তার করে ভবানীপুর থানার পুলিশ। বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্কের মধ্যেই এই গ্রেপ্তারি নতুন রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি করেছে।
সব মিলিয়ে, আমিষ খাওয়া নিয়ে আগের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে সুর কিছুটা নরম করলেও পশুবলি এবং পুজোমণ্ডপের কাছে আমিষ খাবার নিয়ে নিজের আপত্তির জায়গা স্পষ্ট রেখেছেন বাগেশ্বর বাবা। তাঁর নতুন বক্তব্যে বিতর্ক কতটা প্রশমিত হয়, এখন সেটাই দেখার।



