যাদবপুরে গেরুয়া সম্মান যাত্রার মঞ্চে শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, ‘অপমান করলে শিকড়-সহ উপড়ে ফেলব’

গোলপার্ক থেকে যাদবপুরের ৮বি পর্যন্ত ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’র নেতৃত্ব দিয়ে মঞ্চ থেকে গেরুয়ার অপমান ও দেশবিরোধী স্লোগান নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

গেরুয়া রং নিয়ে বিতর্ক এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহেই বুধবার যাদবপুরে বড়সড় কর্মসূচি করল বিজেপি। গোলপার্ক থেকে যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’র নেতৃত্ব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মিছিল শেষে ৮বি-র মঞ্চ থেকে গেরুয়ার অসম্মান এবং ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান নিয়ে কড়া বার্তা দেন তিনি। তাঁর দাবি, বাংলার মাটিতে গেরুয়ার অপমান কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, যাদবপুরের মতো জায়গায়, যেখানে শ্রী অরবিন্দের স্মৃতি ও শিক্ষার ঐতিহ্য রয়েছে, সেখানে দেশবিরোধী স্লোগান বা গেরুয়া নিয়ে অবমাননাকর কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর বক্তব্যে ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগান এবং ‘গেরুয়া তাণ্ডব’ লেখার প্রসঙ্গও উঠে আসে।

শুভেন্দুর বক্তব্য, যারা এই ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। মঞ্চ থেকেই তিনি বলেন, গেরুয়াকে যারা অপমান করবে, তাদের ‘শিকড়-সহ উপড়ে’ ফেলার শপথ নিয়েছেন। বক্তব্যের এই অংশ ঘিরেই সভাস্থলে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ে।

নিজের পুরনো রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রসঙ্গও টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০১১ সালে বামফ্রন্ট সরকারকে সরানোর জন্য শপথ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এরপর ২০২৬ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) নেতৃত্বে রাজ্যে ‘জামাতি সরকার’ সরানোর লক্ষ্যও পূরণ হয়েছে। এই সাফল্যের জন্য তিনি দলের কর্মী-সমর্থকদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন।

এরপরই গেরুয়া নিয়ে নিজের বার্তা আরও স্পষ্ট করেন শুভেন্দু। স্বামী বিবেকানন্দ, শ্রীচৈতন্য এবং প্রণবানন্দের সঙ্গে বাংলার ঐতিহ্যকে যুক্ত করে তাঁর ঘোষণা—এই মাটিতে গেরুয়ার প্রাধান্যই থাকবে। মঞ্চ থেকে বারবার ‘গেরুয়াই হবে’ স্লোগানও দেন তিনি।

এদিনের মিছিলকে ঘিরে যাদবপুরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির মধ্যে দিয়ে গোলপার্ক থেকে শুরু হয় পদযাত্রা। সাধু-সন্তদের হাতে ছিল গেরুয়া পতাকা। মিছিল যত এগিয়েছে, ততই বাড়তে থাকে অংশগ্রহণকারীদের ভিড়।

শুভেন্দুর সঙ্গে মিছিলে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী তাপস রায় এবং যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। মিছিলে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে হাঁটতে দেখা যায় পদ্মশ্রী কার্তিক মহারাজকেও। ৮বি বাসস্ট্যান্ডে মিছিল পৌঁছনোর পর সকলে ‘বন্দে মাতরম’ গানে অংশ নেন।

মিছিল শেষে মঞ্চ থেকে দেশবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ নিয়েও কড়া বার্তা দেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল, যাদবপুরের মতো ঐতিহাসিক ও শিক্ষাকেন্দ্রিক এলাকায় দেশবিরোধী স্লোগান বা গেরুয়ার অবমাননাকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করা হবে।

সব মিলিয়ে ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’কে কেন্দ্র করে বুধবার যাদবপুরে বিজেপির শক্তিপ্রদর্শনই সামনে এল। মিছিলের জমায়েত, সাধু-সন্তদের উপস্থিতি এবং শুভেন্দুর কড়া রাজনৈতিক বক্তব্য—সব মিলিয়ে গেরুয়া ইস্যুকে ঘিরে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ তৈরি হল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন