বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের প্রতিবাদে সরব হওয়ার পর জেলবন্দি হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবিতে এবার সরব হলেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। ভারত সরকারকে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং জেলবন্দি ব্যক্তিদের ন্যায়ের দাবিতে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এই দাবিতে সোমবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। সেই পরিস্থিতিতে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করেছিলেন চট্টগ্রামের ইসকন পুণ্ডরীক ধামের সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। সংখ্যালঘুদের দাবিদাওয়া নিয়ে সরব হয়ে তিনি সনাতনী সম্প্রদায়ের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
এরপর ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে খুন-সহ একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। জামিনের আবেদন ঘিরে আইনি লড়াই চললেও দীর্ঘ সময় ধরে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তাঁর সমর্থকদের অভিযোগ, রাজনৈতিক ও মৌলবাদী চাপের কারণেই তাঁকে টার্গেট করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতেই চিন্ময় প্রভুর পাশে দাঁড়িয়েছেন তসলিমা নাসরিন। তাঁর বক্তব্য, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নে ভারত সরকারের আরও জোরালো ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন। শুধু চিন্ময় প্রভু নন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রযন্ত্রের চাপে থাকা আরও কয়েকজনের ক্ষেত্রেও ন্যায়ের দাবিতে সরব হওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার বিকেল ৪টেয় কলকাতা প্রেস ক্লাবে এই বিষয়ে সাংবাদিক বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পাশাপাশি আরও তিনজন বাংলাদেশির বিষয় তুলে ধরা হবে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন লেখক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট শাহরিয়ার কবির।
শাহরিয়ার কবিরকে ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে। সংখ্যালঘুদের পক্ষে তাঁর অবস্থান এবং লেখালেখির কারণেই তিনি সরকারের রোষের মুখে পড়েছিলেন—এমন অভিযোগ তাঁর সমর্থকদের। বর্তমানে তিনি জেলবন্দি রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
তালিকায় রয়েছেন অধ্যাপক আবদুল বারকতও। সংখ্যালঘুদের বিষয়ে তাঁর অবস্থানের কারণে মৌলবাদীদের বিরোধিতার মুখে পড়েছিলেন বলে অভিযোগ। পরে আর্থিক দুর্নীতির মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সম্প্রতি তিনি জামিন পেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
এছাড়াও মানবাধিকার কর্মী রানা দাশগুপ্তের বিষয়টি সাংবাদিক বৈঠকে সামনে আসতে পারে। তিনি হিন্দু-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক। বাংলাদেশ সরকারের রোষের মুখে পড়ার অভিযোগ তুলে তাঁর হয়েও সরব হওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে তসলিমা নাসরিন এর আগেও একাধিকবার প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন। সম্প্রতি কলকাতায় এসে তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে সরকার বদলালেও মৌলবাদের প্রভাব কমেনি। তাঁর দাবি, সংখ্যালঘু হিন্দুরা এখনও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং নারীরাও নানা সামাজিক ও আইনি বৈষম্যের মুখোমুখি।
চিন্ময় প্রভুর প্রসঙ্গে তসলিমার স্পষ্ট দাবি, তাঁর সঙ্গে অন্যায় হয়েছে এবং তাঁকে মুক্তি দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে বাংলাদেশে গণতন্ত্র, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও মানবাধিকারের প্রশ্নে আন্তর্জাতিক মহল এবং বিশেষ করে ভারতকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
চিন্ময় প্রভু-সহ বাংলাদেশের জেলবন্দি ও সরকারের বিরোধিতার মুখে থাকা ব্যক্তিদের প্রসঙ্গ সোমবারের সাংবাদিক বৈঠকে কতটা জোরালোভাবে উঠে আসে, এখন সেদিকেই নজর। তসলিমা নাসরিনের এই উদ্যোগ বাংলাদেশে সংখ্যালঘু অধিকার ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিতর্ককে ফের সামনে নিয়ে এল।



