বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস ও ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ক্রিকেটার অভিষেক পোড়েলের (Abhishek Porel) জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল চুঁচুড়া আদালত। পুলিশ হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর শুক্রবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হলে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। আগামী ২৮ অগস্ট তাঁকে ফের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
গত ১১ অগস্ট কলকাতার দমদম এলাকা থেকে অভিষেক পোড়েলকে গ্রেফতার করে হুগলির মগরা থানার পুলিশ। গ্রেফতারের পর তাঁকে চুঁচুড়া আদালতে পেশ করা হলে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এদিন ফের আদালতে তোলা হয় তাঁকে।
আদালতে এদিন অভিষেকের জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। তবে সেই আবেদন মঞ্জুর হয়নি। পরিবর্তে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২৮ অগস্ট ফের মামলার শুনানির জন্য তাঁকে পেশ করা হবে।
অভিযোগকারী তরুণী হুগলির মগরা থানা এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি ভিনরাজ্যে ডাক্তারি পড়াশোনা করছেন। চলতি বছরের ২৩ জুন মগরা থানায় অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
তরুণীর অভিযোগ, প্রায় তিন বছর ধরে অভিষেকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সময় বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করা হয়। দু’জনে একসঙ্গে বিদেশেও ঘুরতে গিয়েছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে অভিষেক ধীরে ধীরে তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেন। তৈরি হতে থাকে দূরত্ব। প্রায় দেড় বছর আগে দু’জনের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে সমস্যা তৈরি হলে বিষয়টি থানাতেও গড়িয়েছিল। তবে সেই সময় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানা গিয়েছে।
চলতি বছরের জুনে ফের থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর তদন্ত শুরু করে মগরা থানার পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে একাধিকবার চন্দননগরে অভিষেকের বাড়িতে গিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। কিন্তু তাঁকে সেখানে পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
এরপরই বিষয়টি গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)। অভিযোগকারী তরুণী আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। এরপরই তদন্তকারীরা অভিষেকের খোঁজে তল্লাশি জোরদার করেন।
শেষ পর্যন্ত ১১ অগস্ট দমদম এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে মগরা থানার পুলিশ। গ্রেফতারের পর আদালতের নির্দেশে প্রথমে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতে ছিলেন অভিষেক। সেই পর্ব শেষ হওয়ার পর এদিন তাঁকে জেল হেফাজতে পাঠানো হল।
এখন মামলার তদন্ত কোন পথে এগোয়, সেটাই দেখার। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে পুলিশ ইতিমধ্যেই বিভিন্ন তথ্য ও নথি খতিয়ে দেখছে। আদালতে পরবর্তী শুনানিতে তদন্তের অগ্রগতি এবং অভিযুক্তের জামিনের আবেদন নিয়ে ফের সিদ্ধান্ত হতে পারে।



