কলকাতায় নিজের একটি ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্ন দেখেছিলেন এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মৃত নার্স। সেই স্বপ্ন পূরণের পথে এগোতেই দিন পনেরো আগে পটাশপুরের বাড়িতে গিয়ে বাবার কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা নিয়ে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু তার পরেই আচমকা মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকে ভেঙে পড়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের পরিবার। কীভাবে তরুণী নার্সের মৃত্যু হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে পরিবার।
পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর বিধানসভার সাউথখণ্ড গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন ওই নার্স। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। কৃষক পরিবারের সন্তান হওয়ায় ছোট থেকেই লড়াই করে এগিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। চাকরি পাওয়ার পর কলকাতায় নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নও দেখছিলেন তরুণী।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১৫ দিন আগে বাড়িতে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় বাবার কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা নিয়ে এসেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল কলকাতায় একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য টাকা জোগাড় করা। মেয়ের সেই স্বপ্ন যে এ ভাবে আচমকাই থেমে যাবে, তা ভাবতেই পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।
মৃতার বাবা জানিয়েছেন, বুধবার রাতে হঠাৎ তাঁর জামাই ফোন করে মেয়ের মৃত্যুর খবর দেন। আচমকা এমন খবর পেয়ে কার্যত ভেঙে পড়ে গোটা পরিবার। কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে মেয়ের মৃত্যু হল, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও খুঁজছেন তাঁরা।
পরিবারের দাবি, ওই তরুণীর আচরণ নিয়ে কখনও কোনও অভিযোগ শোনা যায়নি। তিনি অত্যন্ত শান্ত ও ভালো স্বভাবের ছিলেন বলেই জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। ফলে তাঁর মৃত্যু নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই একাধিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। মৃত্যুর নেপথ্যে আসলে কী ঘটেছিল, তা জানতে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে পরিবারের তরফে।
পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, শুধু মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করাই নয়, ঘটনার আগে ও পরে ঠিক কী ঘটেছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের বক্তব্য, পরিস্থিতি এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করে তদন্ত হওয়া উচিত বলে দাবি তাঁদের।
ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও ঘটনার সঠিক তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে খবর। তাঁদের বক্তব্য, তদন্তে কোনও ধরনের গাফিলতি বা অসঙ্গতি ধরা পড়লে তাঁরা চুপ করে থাকবেন না। প্রয়োজনে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করার কথাও জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
তবে এখনও পর্যন্ত ওই নার্সের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট করতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে পরিবার এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলি। রিপোর্ট সামনে এলেই মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ছবি পাওয়া যেতে পারে।
একদিকে কলকাতায় নিজের ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্ন, অন্যদিকে বাবার কাছ থেকে সদ্য নেওয়া ২ লক্ষ টাকা—মৃত্যুর আগে তরুণী নার্সের এই পরিকল্পনার কথা এখন বারবার মনে পড়ছে পরিবারের। সেই স্বপ্নের মাঝেই কেন তাঁর মৃত্যু হল, এই প্রশ্নের উত্তর পেতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতেই এখন সরব মৃতার পরিজনেরা।



