রাজ্যের ৮১ হাজার স্কুলের মানোন্নয়নে জোর, ‘শিক্ষাকে পণ্য হতে দেব না’— বড় বার্তা শুভেন্দুর

জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP) বাস্তবায়নের আগে বিকাশ ভবনে শিক্ষা দফতরের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত। স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়ন, গ্যাসে মিড-ডে মিল রান্না, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন-সহ একাধিক উদ্যোগের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজ্যের ৮১ হাজার স্কুলের উন্নয়নকে সামনে রেখে বড় পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিল রাজ্য সরকার। সোমবার বিকাশ ভবনে শিক্ষা দফতরের আধিকারিক, উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ও স্কুলশিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP) বাস্তবায়নের আগে সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো ও শিক্ষার মান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে তাঁর বার্তা, “শিক্ষাকে পণ্য হতে দেব না।”

বিকাশ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্কুলশিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা—দুই ক্ষেত্র নিয়েই বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। রাজ্যের সব সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ এবং ছাত্রছাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে একাধিক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের প্রায় ৮১ হাজার স্কুলকে উন্নয়নের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে স্কুলগুলিকে আরও পরিচ্ছন্ন রাখা, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

বৈঠকের পর তিনি জানান, ভবিষ্যতে স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল গ্যাসের মাধ্যমে রান্না করার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া পর্যায়ক্রমে স্কুলে সোলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানীয় জলের জন্য অ্যাকোয়া গার্ড, এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ছাত্রীদের সুবিধার্থে মেয়েদের স্কুলে স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন বসানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, শিক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাও সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।

বৈঠকে জাতীয় শিক্ষা নীতি কার্যকর করার প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। রাজ্য সরকারের দাবি, শিক্ষার মানোন্নয়ন, স্কুলছুটের সংখ্যা কমানো এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ দায়িত্ব রয়েছে। সেই প্রসঙ্গেই তিনি জানান, সরকার শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং শিক্ষাকে বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত হতে দেবে না।

এছাড়াও স্কুল পরিচালনায় অভিভাবকদের অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রতিটি স্কুলে অভিভাবক কমিটি গঠনের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন