বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই-অগস্ট আন্দোলন ও সহিংসতা নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্টকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের দপ্তর (OHCHR)-এর প্রকাশিত রিপোর্টকে ‘ভ্রান্ত’ ও ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করে তা প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ওই প্রতিবেদনে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরা হয়নি এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘটনাকে উপস্থাপন করা হয়েছে।
হাসিনার আইনজীবীদের মাধ্যমে রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার তুর্কের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনের সময় প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হওয়ার যে দাবি রিপোর্টে করা হয়েছে, তা বাস্তব তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই সংখ্যাকে ‘অতিরঞ্জিত’ বলে উল্লেখ করে অবিলম্বে সংশোধন বা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, হতাহতের সংখ্যা বাড়িয়ে দেখিয়ে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়েছে। হাসিনার আইনি দলের দাবি, তাঁর সরকারকে বেআইনি ও সহিংস উপায়ে ক্ষমতাচ্যুত করার ঘটনাকে বৈধতা দিতেই এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
নিজেদের বক্তব্যের সমর্থনে হাসিনার আইনজীবীরা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রকাশিত একটি সরকারি গেজেটের উল্লেখ করেছেন। সেখানে আন্দোলন চলাকালীন নিহতের সংখ্যা ৮৩৪ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। তাঁদের দাবি, রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রতিবেদনে উল্লেখিত সংখ্যার সঙ্গে এই তথ্যের বড়সড় ফারাক রয়েছে।
এছাড়া হাসিনার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠকরাও নিহতের সংখ্যা প্রায় ৬৫০ বলে দাবি করেছিলেন। স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও কম হতে পারে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপুঞ্জের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে হাসিনার আইনি দল। তাঁদের বক্তব্য, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমন্ত্রণে এই তদন্ত হয়েছিল। ফলে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে। বিশেষ করে রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে তৈরি হওয়া রিপোর্টের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের নভেম্বরে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আন্দোলন দমনের ঘটনায় গণহত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনা এবং তাঁর সরকারের কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে রায় দেয়। তবে শুরু থেকেই সেই বিচারপ্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে হাসিনার শিবির।
রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্ট নিয়ে এই নতুন আইনি ও কূটনৈতিক লড়াই বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কে পরিণত হতে পারে। এখন নজর থাকবে ওএইচসিএইচআর এই চিঠির জবাবে কী অবস্থান নেয় এবং রিপোর্ট পুনর্বিবেচনার কোনও উদ্যোগ নেয় কি না।



