রাজ্যে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির ঘোষণার পর ফের উত্তপ্ত উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত এলাকা। বসিরহাটের হাকিমপুর সীমান্তে মঙ্গলবার সকাল থেকেই দেখা গেল ট্রলি, বস্তা, লোটা-কম্বল হাতে বহু সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীর ভিড়। সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে ফেরার অপেক্ষাতেই তাঁরা জড়ো হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
হাকিমপুর চেকপোস্ট সংলগ্ন এলাকায় মঙ্গলবার সকাল থেকে প্লাস্টিক পেতে বসে থাকতে দেখা যায় বহু মানুষকে। কারও হাতে ট্রলি ব্যাগ, কারও সঙ্গে গৃহস্থালির সামগ্রী। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজরদারির মধ্যেই চলছিল অপেক্ষা—কবে ডাক আসবে সীমান্ত পার হওয়ার।
স্থানীয় সূত্রের খবর, সোমবারও প্রায় ১০০ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী চেকপোস্টের কাছে অস্থায়ী ছাউনিতে জড়ো হয়েছিলেন। বাইরে আরও ৩০ থেকে ৪০ জন অপেক্ষা করছিলেন। পরিস্থিতি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
রাজ্যের নতুন সরকার সম্প্রতি জেলায় জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ দিয়েছে। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বা রোহিঙ্গা সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের সেখানে রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রশাসনিক এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই ফের সীমান্তে চাপ বাড়তে শুরু করেছে বলে দাবি স্থানীয়দের একাংশের।
এর আগেও একই ছবি দেখা গিয়েছিল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর ঘোষণার সময়। গত বছরের অক্টোবরের শেষ থেকে নিউটাউন, দমদম, ডানকুনি-সহ বিভিন্ন এলাকায় থাকা বহু বাংলাদেশি নাগরিকের সীমান্ত পেরিয়ে ফিরে যাওয়ার প্রবণতা নজরে এসেছিল।
তবে পরে সেই স্রোত কমে যায়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তৎকালীন শাসকদলের অবস্থান এবং এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধিতার জেরে অনেকেই আশ্বস্ত হয়েছিলেন। ফলে বাংলাদেশে ফেরার প্রবণতা কিছুটা থেমে যায়।
অন্যদিকে বিজেপির একাংশের দাবি ছিল, সরকার বদল হলে অনুপ্রবেশকারীরা নিজেরাই সীমান্তের পথে হাঁটবেন। বর্তমানে হাকিমপুর সীমান্তে যে পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, তা সেই দাবিকেই সামনে এনে দিয়েছে বলে মত গেরুয়া শিবিরের।
নবান্ন সূত্রে খবর, নতুন ‘হোল্ডিং সেন্টার’-এ সন্দেহভাজনদের ৩০ দিন পর্যন্ত রাখা যাবে। যাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে বা যাঁদের বিদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তাঁদেরও সেখানে রাখা হতে পারে।
ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় এই কেন্দ্র তৈরির জন্য জায়গা চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। প্রশাসনের এই কড়া অবস্থানের পরই সীমান্ত এলাকায় ফের অনুপ্রবেশকারীদের ভিড় বাড়ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।



