সপ্তাহের প্রথম ট্রেডিং সেশনেই শেয়ার বাজারে জোরালো প্রত্যাবর্তন। বাজার খোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই বড় লাফ দেয় Sensex এবং Nifty 50। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে স্বস্তির ইঙ্গিত, তেলের দাম কমা এবং টাকার শক্তি ফিরে আসা— একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে।
সোমবার ইন্ট্রাডে ট্রেডিংয়ে সেনসেক্স ৯১৮ পয়েন্ট বা ১.২১ শতাংশ বেড়ে ৭৬,৩৩৪ পয়েন্টে পৌঁছয়। অন্যদিকে নিফটি ৫০ প্রায় ২৭০ পয়েন্ট বেড়ে ২৩,৯৮৯ পয়েন্ট ছুঁয়ে ফেলে। বাজারের শুরুতেই এই উত্থান নজর কেড়েছে বিনিয়োগকারীদের।
শুধু বেঞ্চমার্ক সূচক নয়, বাজারের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরেই ছিল ইতিবাচক ছবি। অটো, ব্যাঙ্ক, ফিনান্সিয়াল সার্ভিস, অয়েল অ্যান্ড গ্যাস, ডিফেন্স, এনার্জি এবং ক্যাপিটাল মার্কেট সংক্রান্ত সূচক ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তুলনায় আইটি সেক্টরে ওঠানামা সীমিত ছিল।
কেন বাড়ল শেয়ার বাজার?
১. ইরান-আমেরিকা সংঘাত কমার আশা
পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতির খবর বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
২. ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমেছে
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়াকে ভারতীয় বাজারের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্রেন্ট ক্রুড ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসায় আমদানি ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কমার আশা তৈরি হয়েছে।
৩. রুপির শক্তি ফিরে আসা
গত কয়েক সেশনের তুলনায় মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির অবস্থান কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে। সোমবার বাজার খোলার সময় রুপির বিনিময়দর উন্নত হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থাও কিছুটা বেড়েছে।
৪. গ্লোবাল মার্কেটের ইতিবাচক সিগন্যাল
জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও এশিয়ার অন্যান্য বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা ভারতীয় বাজারকেও সমর্থন দিয়েছে। ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারের আগের সেশনের ইতিবাচক সমাপ্তিও তার প্রভাব ফেলেছে।
তবে সবটাই পুরোপুরি নির্ভার নয়। বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের (FPI) একাংশ এখনও ভারতীয় বাজার থেকে লগ্নি সরিয়ে নিচ্ছেন। কিন্তু আপাতত আন্তর্জাতিক স্বস্তি, তেলের দাম কমা এবং দেশীয় অর্থনৈতিক সূচকের উন্নতি সেই চাপকে ছাপিয়ে গিয়েছে।
আগামী কয়েকটি সেশন গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। কারণ বাজার এখন শুধু কর্পোরেট ফলাফল নয়, বিশ্ব রাজনীতি, তেলের দাম এবং মুদ্রাবাজারের দিকেও সমান নজর রাখছে।



