মধ্যমগ্রামে গুলিকাণ্ডে তৎপর সিআইডি, সিসিটিভি ফুটেজ ঘেঁটে খোঁজ শুভেন্দুর আপ্তসহায়কের খুনিদের

মধ্যমগ্রামে শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে সিআইডি, জোরদার তদন্তে রাজ্য পুলিশ ও ফরেনসিক দল।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই জোরকদমে তদন্তে নেমেছে সিআইডি ও রাজ্য পুলিশ। ইতিমধ্যেই এলাকার একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, পরিকল্পিতভাবে রেকি করে এই হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনায় ব্যবহৃত সন্দেহভাজন গাড়ি বাজেয়াপ্ত হয়েছে, মিলেছে গুলি ও কার্তুজও। খুনের পর থেকেই গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।

বুধবার গভীর রাতে মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়া এলাকায় গুলি করে খুন করা হয় চন্দ্রনাথ রথকে। সেই সময় তাঁর সঙ্গে গাড়িতে আরও একজন ছিলেন। তিনিও গুলিবিদ্ধ হন এবং বর্তমানে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রথমে দু’জনকে মধ্যমগ্রামের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা চন্দ্রনাথকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর থেকেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন চন্দ্রনাথ। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের গতিবিধি চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছন সিআইডি-র আধিকারিকেরা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তারা। যৌথভাবে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। যেখানে গুলি চালানো হয়েছিল, সেই এলাকা সম্পূর্ণ কর্ডন করে রেখেছে পুলিশ। চন্দ্রনাথের আবাসন থেকে যশোর রোড পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অংশে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।

ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল বুধবার রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। যে গাড়িতে চন্দ্রনাথ ছিলেন, সেটি থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। গাড়ির চালকের আসন ও পাশের আসনে রক্তের দাগ পাওয়া গিয়েছে। তদন্তকারীরা গাড়ির ভিতরের একাধিক অংশ খতিয়ে দেখেছেন। পরে গাড়িটিকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বিস্তারিত পরীক্ষার জন্য।

এদিকে, বারাসাত মেডিক্যাল কলেজে চন্দ্রনাথের দেহের ময়নাতদন্তের জন্য তিন সদস্যের বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। একজন বিভাগীয় প্রধান এবং দু’জন সহকারী অধ্যাপককে নিয়ে তৈরি হয়েছে সেই দল। হাসপাতাল সূত্রে খবর, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পৌঁছলেই দ্রুত ময়নাতদন্ত শুরু হবে। ভোররাতে দেহটি নার্সিংহোম থেকে বারাসাত মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছে।

রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত বুধবার রাতেই হাসপাতালে পৌঁছে তদন্তের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন। তিনি জানান, হামলায় ব্যবহৃত সন্দেহভাজন একটি চারচাকা গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। নম্বরপ্লেট অনুযায়ী সেটি শিলিগুড়ির হলেও, প্রাথমিকভাবে সেটিকে ভুয়ো নম্বরপ্লেট বলেই মনে করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে গুলি ও ব্যবহৃত কার্তুজও।

চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতালের সামনে জড়ো হন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। গভীর রাত পর্যন্ত চলে বিক্ষোভ। দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবি তোলেন তাঁরা। খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছে যান শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার-সহ বিজেপির একাধিক নেতা।

শুভেন্দুর দাবি, কয়েক দিন ধরে রেকি করে ঠান্ডা মাথায় এই খুন করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, নিহতের পরিবার ও আহত ব্যক্তির চিকিৎসার সমস্ত দায়িত্ব দল নেবে। যদিও ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক যোগ থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি, তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি বিরোধী দলনেতা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন