পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও অশান্তির আবহ কাটেনি। তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। এই পরিস্থিতিতে দেশীয় বাজারকে সুরক্ষিত রাখতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রের সরকার—ডিজেল ও বিমানের জ্বালানির রপ্তানি শুল্ক বাড়ানো হল, যাতে দেশে জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
শনিবার সন্ধ্যায় অর্থমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ডিজেলের রপ্তানি শুল্ক বাড়িয়ে প্রতি লিটারে ৫৫ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়েছে। আগে যেখানে এই শুল্ক ছিল অনেকটাই কম, সেখানে এক ধাক্কায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি জ্বালানি নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
একই সঙ্গে এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF)-এর ক্ষেত্রেও শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগে যেখানে এই শুল্ক ছিল ২৯ টাকা ৫০ পয়সা, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ টাকা প্রতি লিটার। অর্থাৎ প্রায় ১৩ টাকার বৃদ্ধি, যা সরাসরি বিমান শিল্পে প্রভাব ফেলতে পারে।
এছাড়াও হাই-স্পিড ডিজেলের উপর আবগারি শুল্ক বাড়িয়ে ২৪ টাকা করা হয়েছে এবং রোড ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেস বাড়িয়ে ৩৬ টাকা করা হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয়, পেট্রোলের রপ্তানি শুল্কে কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি।
সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য সঙ্কট এড়ানো। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বাড়লেও, এই নীতির ফলে দেশে পেট্রোল, ডিজেল ও বিমান জ্বালানির ঘাটতি তৈরি হবে না বলেই আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে, অন্যদিকে বিমান ভাড়ার ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে। যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে যাত্রীদের উপর যে বাড়তি খরচের চাপ তৈরি হয়েছিল, তাতেও কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে।



