ভোটের আগে বাংলার রাজনৈতিক মঞ্চে তীব্র উত্তাপ ছড়াল বিজেপির ‘জনগণের চার্জশিট’। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে সামনে এসে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরলেন— অনুপ্রবেশ, জনবিন্যাস পরিবর্তন, দুর্নীতি, নারী নিরাপত্তা থেকে শুরু করে শিল্পহীনতা— একাধিক ইস্যুতে সরাসরি আক্রমণ শানালেন তিনি। ২০২৬-এর ভোটকে সামনে রেখে বিজেপির এই চার্জশিট কার্যত রাজনৈতিক লড়াইকে নতুন মাত্রা দিল।
চার্জশিট প্রকাশ করে শাহ দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে ‘অরাজকতা’ চলছে এবং অনুপ্রবেশ বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর বক্তব্য, অসমে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণে এসেছে, কিন্তু বাংলায় তা অব্যাহত। ফলে এই রাজ্যের নির্বাচন দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত বলে দাবি করেন তিনি।
জনবিন্যাস পরিবর্তনের প্রসঙ্গেও সরব হন শাহ। তাঁর অভিযোগ, অনুপ্রবেশকারীদের জন্য রাজ্যের সামাজিক ভারসাম্য বদলে যাচ্ছে। ওবিসি তালিকায় মুসলিম সম্প্রদায়ের উচ্চ উপস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন— ভবিষ্যতে স্থানীয় বাসিন্দারাই সংখ্যালঘু হয়ে পড়তে পারেন।
ধর্মীয় উৎসব নিয়েও রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেন শাহ। তাঁর দাবি, এ বছরের রামনবমীতে অশান্তি তুলনামূলক কম হয়েছে শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ পদক্ষেপের কারণে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। শাহের অভিযোগ, “ভ্রষ্টাচার, মিথ্যা এবং বিভেদের রাজনীতি”— এই তিনের ওপর দাঁড়িয়ে তৃণমূল নিজেদের রাজনীতি চালাচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটের সময় ‘ভিক্টিম কার্ড’ খেলা তৃণমূলের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
শিল্পোন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গেও তীব্র সমালোচনা শোনা যায় শাহের বক্তব্যে। তাঁর দাবি, দুর্নীতির কারণে বাংলার যুবসমাজ কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং রাজ্যটি শিল্পক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে।
‘সিন্ডিকেট রাজ’-এর অভিযোগ তুলে শাহ বলেন, সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। দুর্নীতিগ্রস্তদের রাজনীতিতে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বাজেট বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শাহ। তাঁর দাবি, তোষণের রাজনীতির কারণে সংখ্যালঘুদের জন্য বেশি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে— যা রাজ্যের আর্থিক নীতির ভারসাম্য নষ্ট করছে।
নারী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে একাধিক ঘটনার উল্লেখ করে রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন তিনি। একইসঙ্গে এসআইআর ইস্যুতে তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল অযথা আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করছে।
সবশেষে শাহ উন্নত বাংলা গড়ার ডাক দেন এবং দাবি করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে গরিবদের বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে। তাঁর আত্মবিশ্বাস, আগামী নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে রাজ্যে সরকার গঠন করবে বিজেপি।



