ইরানে ছাত্রবিক্ষোভ! খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে রাস্তায় শ’য়ে শ’য়ে পড়ুয়া, কাঁপছে তেহরান থেকে মাশাদ

নতুন সেমেস্টারের প্রথম দিনেই তেহরান, মাশাদ-সহ একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে খামেনেই-বিরোধী বিক্ষোভ; স্বাধীনতা ও অধিকারের দাবিতে সরব পড়ুয়ারা

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নতুন সেমেস্টারের প্রথম দিনেই ফেটে পড়ল ক্ষোভ। ইরানের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শ’য়ে শ’য়ে ছাত্র রাস্তায় নেমে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তেহরান, মাশাদ-সহ বিভিন্ন শহরে “স্বাধীনতা চাই” স্লোগানে মুখর ক্যাম্পাস ও রাজপথ। গত ডিসেম্বরের গণবিক্ষোভ দমনের পর এক মাস না পেরোতেই ফের উত্তপ্ত ইরান, যা নতুন করে চাপ বাড়াচ্ছে খামেনেই প্রশাসনের উপর।

শনিবার থেকে ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে নতুন সেমেস্টার শুরু হয়েছে। আর প্রথম দিনেই অশান্তির সুর। তেহরানের প্রসিদ্ধ শরিফ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির ক্যাম্পাসে প্রথমে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন পড়ুয়ারা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সেই সময় খামেনেইপন্থী একটি গোষ্ঠী বিক্ষোভকারীদের বাধা দিতে এলে উত্তেজনা ছড়ায়। দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে বলে খবর।

শুধু শরিফ নয়, তেহরানের শহিদ বেহস্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আমির কবির ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজিতেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা খামেনেই এবং ইরান সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি স্লোগান তুলতে থাকেন। “স্বৈরাচারের মৃত্যু হোক”, “নিজেদের অধিকারের দাবিতে গর্জে ওঠো”— এমন সব স্লোগানে সরগরম হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর।

উত্তর-পূর্ব ইরানের বড় শহর মাশাদেও একই চিত্র। সেখানেও শিক্ষার্থীরা সংগঠিত হয়ে পথে নেমেছেন। মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং প্রশাসনিক দমনপীড়নের বিরুদ্ধে তাঁরা আওয়াজ তুলেছেন। রবিবার আরও বৃহত্তর কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

পটভূমিতে রয়েছে গত ডিসেম্বরের গণবিক্ষোভ। শুরুতে মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে যে আন্দোলন, তা দ্রুত রূপ নেয় খামেনেই-বিরোধী বিক্ষোভে। দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলন, যার জেরে কঠোর দমননীতির অভিযোগ ওঠে প্রশাসনের বিরুদ্ধে। জানুয়ারিতে সেই আন্দোলন অনেকটাই স্তিমিত হয়ে পড়েছিল। কিন্তু ফেব্রুয়ারির শুরুতেই আবার তার পুনরুত্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে, অসন্তোষের আগুন এখনও চাপা রয়েছে।

নিহতের সংখ্যা ঘিরে পরিসংখ্যানেও রয়েছে তীব্র বিতর্ক। ইরান সরকার দাবি করেছে, গত মাসের শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভে ৩,১০০ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, একটি মার্কিন মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, মৃতের সংখ্যা অন্তত ৬,১৫৯। আরও প্রায় ১৭ হাজার মানুষের মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও দাবি তাদের। এই সংখ্যাগত ফারাক আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

দেশের বাইরে প্রবাসী ইরানিরাও সক্রিয় হচ্ছেন। শনিবার স্পেনের বার্সেলোনায় খামেনেই-বিরোধী বিক্ষোভে শামিল হন বহু প্রবাসী। ফলে স্পষ্ট, এই আন্দোলন শুধু ইরানের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই।

তবে এখনও পর্যন্ত শনিবার ও রবিবারের বিক্ষোভ ঘিরে গ্রেফতার বা আটকের সরকারি তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল। প্রশ্ন উঠছে—দমনেই কি থামবে ক্ষোভ, নাকি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে ইরানের ছাত্রআন্দোলন?

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন