দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। ষোলো বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরছে বরোদায়, আর প্রত্যাবর্তনের মঞ্চে আবার সেই চেনা প্রতিপক্ষ—নিউজিল্যান্ড। শহরের বাইরে নতুন Kotambi Stadium-এ ভারতীয় দলের নামা মানেই আলাদা উন্মাদনা। নেটে হাসি-আড্ডা, ছোট ছোট টেকনিক্যাল টিউনিং—সব মিলিয়ে ম্যাচের আগে টিম ইন্ডিয়ার মেজাজ ফুরফুরে।
অদ্ভুত কাকতালীয়—২০১০ সালে বরোদার রিলায়েন্স স্টেডিয়ামে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটিও ছিল ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড। এক দশকের বেশি সময় পর সেই দ্বৈরথই ফিরছে। শুক্রবার বিকেল পাঁচটা থেকে মূল স্টেডিয়ামে অনুশীলনে নামেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। Virat Kohli ও Rohit Sharma খুব বেশি সময় ব্যাটিং না করলেও পুরো সেশনজুড়ে খোশমেজাজে দেখা যায় দলকে। দু’জনের আড্ডা আর হাসি—ড্রেসিংরুমের আত্মবিশ্বাসের ইঙ্গিতই দিচ্ছিল।
অনুশীলনে আলাদা করে নজর কাড়ে বিরাট–Yashasvi Jaiswal পর্ব। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজে শুরুটা ভালো করেও ইনিংস বড় করতে না পারায় যশস্বীর জন্য বিশেষ ‘মিনি ক্লাস’ নেন বিরাট। টেকনিক্যাল কিছু খুঁটিনাটি নিয়ে বেশ খানিকক্ষণ আলোচনা চলে—শেষ ম্যাচের সেঞ্চুরির পর তরুণ ওপেনারের আত্মবিশ্বাসকে আরও শান দেওয়ার চেষ্টা স্পষ্ট।
নিউজিল্যান্ড সিরিজের মুখ্য আকর্ষণ যে ‘রো-কো’, তা বলাই বাহুল্য। ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজে দু’জনই ছিলেন দুরন্ত ছন্দে। সিরিজের আগে দু’জনেই ঘরোয়া ক্রিকেটে নেমেছেন—বিজয় হাজারে ট্রফিতে রানও এসেছে। ‘রো-কো’ ফর্মে থাকলে বাকিদের কাজ যে সহজ হয়ে যায়, সেটাই বাস্তবতা।
কম্বিনেশনে কিছু বদলও রয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মাথায় রেখে বিশ্রামে Jasprit Bumrah। ওয়ানডে দলে ফিরেছেন Mohammed Siraj—বিজয় হাজারে ট্রফিতে তাঁর ফর্ম ছিল চোখে পড়ার মতো। ফলে Arshdeep Singh-এর সঙ্গে সিরাজের জুটি দেখার সম্ভাবনা বেশি। স্পিনে ঘরের মাঠে তিন জন—Ravindra Jadeja, Kuldeep Yadav এবং Washington Sundar—নামতে পারেন। Hardik Pandya না থাকায় পেস-অলরাউন্ডার হিসেবে Nitish Reddy-র নাম ভাবনায়।
চূড়ান্ত একাদশ অবশ্য এখনও স্থির নয়। শনিবার পিচ ও কন্ডিশন দেখে সিদ্ধান্ত হবে। সকালে অনুশীলন করেছে নিউজিল্যান্ডও। গত বছর টেস্ট সিরিজে ভারতের বিরুদ্ধে সাফল্য পেলেও ওয়ানডেতে সমীকরণ আলাদা—বরোদার মাঠে বিরাট–রোহিতকে থামাতে না পারলে কাজ যে কঠিন, তা ভালোই জানে কিউই শিবির।



