প্রাথমিক শিক্ষা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আরও তথ্য প্রকাশ করল সিবিআই। আদালতে জমা দেওয়া চার্জশিটে সিবিআই জানিয়েছে, বিকাশ ভবন থেকে উদ্ধার করা তালিকায় ৩২১ জন অযোগ্য চাকরিপ্রার্থীর নাম ছিল। সেই তালিকায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নিজস্ব হস্তলিপিতে নির্দেশমূলক মন্তব্য লেখা ছিল। ‘একে নিতেই হবে’, ‘প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হলে নিতে হবে’, এমন মন্তব্যগুলো নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।
উদ্ধার হওয়া তথ্য
চার্জশিট অনুযায়ী, প্রার্থীদের নামের তালিকায় নাম, রোল নম্বর ছাড়াও উল্লেখ ছিল রাজনৈতিক সুপারিশকারী ব্যক্তির নাম। সেই তালিকায় দেখা গেছে, পার্থ নিজেই লিখে দিতেন কোন প্রার্থীকে নিয়োগ করা হবে। কোথাও ‘পুরুলিয়া’, কোথাও ‘বাঁকুড়া’, আবার কোথাও ‘ভিভিআই’ (খুব খুব দরকারি) এমন মন্তব্য পাওয়া গেছে।
সিবিআইয়ের দাবি
সিবিআইয়ের বক্তব্য, পার্থের হস্তলিপির অনুলিখন তৈরি করে তা সিডির সঙ্গে পাঠানো হত প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের তৎকালীন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যের কাছে। সিবিআই আরও জানিয়েছে, এই ৩২১ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৩৪ জন ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষার মাধ্যমে চাকরি পেয়েছেন।
সাক্ষীদের জবানবন্দি
বিকাশ ভবনের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুপর্ণা নিয়োগী বলেছেন, “আমাদের সিবিআই কিছু নথি দেখিয়েছে যেখানে জেলার নাম লেখা ছিল। আমরা শুধু মন্ত্রীর নির্দেশ মেনে কাজ করতাম, তালিকার বিষয়বস্তু জানতাম না।”
তদন্তের অগ্রগতি
পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং মানিক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, প্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করে তাদের চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। পার্থের হাতের লেখা নির্দেশিকা এবং তার প্রমাণগুলি এখন সিবিআইয়ের তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।



