প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সহ ৫৪ জন অভিযুক্ত, আদালতে চার্জ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু সোমবার থেকে
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আদালতে নতুন মোড়। আগামী সোমবার থেকে শুরু হতে চলেছে চার্জ গঠনের প্রক্রিয়া। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়-সহ ৫৪ জনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে আদালতে সশরীরে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিবিআইয়ের জমা দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চার্জ গঠনের কাজ শুরু হবে।
নিয়োগ দুর্নীতির বিস্তারিত বিবরণ
সিবিআই-এর তরফে আদালতে দাবি করা হয়েছে, নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে ওএমআর সিট টেম্পার করে মেধা তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। মেধা তালিকার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ করা হয়েছে। সিবিআইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সুবীরেশ ভট্টাচার্য, শান্তিপ্রসাদ সিনহা, অশোক সাহা, এবং কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।
সিবিআইয়ের আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী আদালতে দাবি করেন, অভিযুক্তরা নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি করেছেন। এদের জামিন দিলে তদন্তের প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সাক্ষ্য প্রমাণ লোপাট বা সাক্ষীদের ভয় দেখানোর আশঙ্কাও রয়েছে বলে সিবিআই জানিয়েছে।
চার্জ গঠন ও মামলার অগ্রগতি
গত মঙ্গলবার আদালতে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার যাবতীয় নথি জমা দেয় সিবিআই। এরপর আদালত চার্জ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। মামলার চূড়ান্ত রায়ের দিকে এগোতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
জামিন নিয়ে বিতর্ক:
সম্প্রতি এই মামলায় ইডি-র একটি মামলায় জামিন পেলেও সিবিআইয়ের মামলায় জামিন পাননি প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এখন চার্জ গঠনের মাধ্যমে তাঁর এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ শুরু হবে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে। আদালতে চার্জ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় মামলা চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এই প্রক্রিয়ার ফলাফল কত দ্রুত সামনে আসবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক নজরে:
- প্রধান অভিযুক্ত: পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সুবীরেশ ভট্টাচার্য, শান্তিপ্রসাদ সিনহা, অশোক সাহা, এবং কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়।
- মামলার বর্তমান অবস্থা: চার্জ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে।
- সিবিআইয়ের দাবি: ওএমআর সিট টেম্পারিং, মেধা তালিকার মেয়াদোত্তীর্ণের পর নিয়োগ, ক্ষমতার অপব্যবহার।
- রাজনৈতিক প্রভাব: রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিসরে বড় প্রভাব ফেলেছে এই মামলা।



