আরজি করের মহিলা চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় মঙ্গলবার মহামিছিলের ডাক দিয়েছিল বামফ্রন্ট। রাজাবাজার ট্রাম ডিপো থেকে আরজি কর পর্যন্ত পায়ে পা মিলিয়ে হাঁটলেন সুজন চক্রবর্তী, সূর্যকান্ত মিশ্র থেকে শুরু করে কনীনিকা ঘোষ, প্রতীক-উর-রহমান। শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড়ে মিছিল পৌঁছতেই পুলিশের তরফে ব্যারিকেড তৈরি করে দেওয়া হয়। ব্যারিকেড ভেঙে বাম নেতা-কর্মীরা এগোতে চাইলে শুরু হয় অশান্তি। অবশেষে মাটিতে বসেই আরজি করের বিচারের দাবি জানান সুজন-সূর্যকান্তরা।
গত ৯ অগস্ট আরজি কর হাসপাতালের চারতলার সেমিনার হল থেকে এক তরুণী চিকিৎসকের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ময়নাতদন্তের পর জানা যায়, চেস্ট মেডিসিন বিভাগের ওই তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় উত্তাল গোটা দেশ। আজ বামেদের পাশাপাশি বাইপাসে বেলেঘাটা থেকে পাটুলি পর্যন্ত মানববন্ধনে বেরোন স্বাস্থ্যকর্মীরা। অভিনব এই প্রতিবাদ দৃশ্য সাম্প্রতিক অতীতে দেখেনি শহরবাসী। বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে হাতে হাতে ধরে লাইন করে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ জানান তাঁরা।
অন্যদিকে, দীর্ঘ ২২ ঘন্টা অবস্থান বিক্ষোভের পর অবশেষে মঙ্গলবার লালবাজারে গিয়ে শংসাপত্র জমা দিল জুনিয়র চিকিৎসক ফ্রন্টের ২২ জনের প্রতিনিধিদল। তাঁদের একটাই দাবি ছিল, পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের পদত্যাগ। শংসাপত্র জমা দিয়ে বেরিয়ে আন্দোলনরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আপাতত লালবাজারের সামনে থেকে তাঁরা অবস্থান বিক্ষোভ তুলে নিচ্ছেন। তবে আগামী দিনে ঘোষিত কর্মসূচি চলতেই থাকবে। সূত্রের খবর, লালবাজার গিয়ে চিকিৎসকরা প্রতীকী মেরুদন্ড ও গোলাপ ফুল পুলিশকে উপহার দিয়েছেন।
সোমবার সিবিআই-এর দুর্নীতি দমন শাখা গ্রেফতার করেছে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে। আজ তাঁকে আদালত ৮ দিনের সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। এদিন মিছিলে বেরিয়ে সুজন চক্রবর্তী বলেন, “সন্দীপ ঘোষ গ্রেফতার হবেন, এটা তো জানা কথা। কিন্তু মাথায় কে আছেন? সেটা সবাই জানেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কী করবেন আমরা জানি না। কিন্তু, স্বাস্থ্য ও পুলিশমন্ত্রী হিসাবে তাঁর পদত্যাগ কড়া উচিৎ।”



