বিগত দু’মাসে পরপর চারটি রেল দুর্ঘটনা। সবমিলিয়ে মৃত্যু হয়েছে শতাধিক মানুষের। পরিস্থিতি এমনই যে ট্রেনে চাপতে রীতিমতো ভয় পাচ্ছেন পাচ্ছে আমজনতা। সংসদের চলতি অধিবেশনেও রেল দুর্ঘটনা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে কেন্দ্র সরকারকে। সদ্য প্রকাশিত বাজেটেও রেলের সুরক্ষা নিয়ে আলাদা করে কিছুই ঘোষণা করেনি কেন্দ্র সরকার। যা নিয়ে সরব বিরোধীরা। অবশেষে সংসদে রেল দুর্ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।
এদিন রেলমন্ত্রী বিরোধী শিবিরকে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেন। কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টিকে নিশানায় এনে বলেন, সমাজমাধ্যমে মিথ্যে ‘রিল’ বানিয়ে মানুষের মধ্যে রেল নিয়ে ভয় সৃষ্টি করছে বিরোধীরা। পাশাপাশি, তিনি দাবি করেন বিগত কয়েকবছরে রেলে যতগুলো নিয়োগ পরীক্ষা হয়েছে সেখানে কোনও রকম দুর্নীতির অভিযোগ আসেনি। সঙ্গে তিনি আরও বলেন, লোকোপাইলটদের জন্য অনেক সুবিধা বৃদ্ধি করেছে এনডিএ সরকার।
#WATCH | While speaking in Lok Sabha, Union Minister for Railways, Ashwini Vaishnaw says, “Those who are shouting here must be asked in their 58 years of being in power why they were not able to install Automatic Train Protection (ATP), even 1 km. Today, they dare to raise the… pic.twitter.com/1f66YxBspV
— ANI (@ANI) August 1, 2024
যদিও আজ রেলমন্ত্রী বক্তব্য রাখার সময় লাগাতার বিরোধী শিবির থেকে ‘শেম’ ‘শেম’ স্লোগান আসতে থাকে। সেই সময় মেজাজ হারান বৈষ্ণব। তিনি তখন বাংলার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি বলেন, “মমতাজী যখন রেলমন্ত্রী ছিলেন তখন দুর্ঘটনা অনেক কমেছিল। সেই হিসাবে এই সংসদে দিতেন তিনি এবং হাততালি কুড়োতেন। মমতাজী হিসাবে বলেছিলেন রেলদুর্ঘটনার ইনডেক্স পয়েন্ট ২৩ থেকে পয়েন্ট ১৯-এ নেমেছে আর তাতেই সাংসদেরা তখন হাততালি দিতেন। আর এখন পয়েন্ট ১৯ থেকে পয়েন্ট ০৪-এ ইনডেক্স নেমেছে অথচ আমাদের সমালোচনা করা হয়।”
অশ্বিনী আরও বলেন, “২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইউপিএ সরকারের আমলে রেলে মাত্র ৪ লক্ষ ১১ হাজার কর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল। যেখানে ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এনডিএ আমলে ১০ বছরে ৫ লক্ষ ২ হাজার নিয়োগ হয়েছে। বছরে চারবার স্বচ্ছতার সঙ্গে পরীক্ষা হয়। জানুয়ারী, এপ্রিল, জুলাই এবং অক্টোবরে। বিরোধীরা এরকম আচরণ করলে তা সাজে না। সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।”



