প্রশ্নফাঁস দুই সর্বভারতীয় পরীক্ষার, মৌন প্রধানমন্ত্রী, পার্লামেন্টের অপেক্ষায় রাহুল

তৃতীয়বার সরকারে এসে স্বস্তিতে নেই নরেন্দ্র মোদি। এক সপ্তাহে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা প্রশ্নের মুখে। মৌন প্রধানমন্ত্রীর জবাব পার্লামেন্টে নেবেন রাহুল গান্ধী।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সাত দিনের মধ্যে প্রশ্নের মুখে ভারতবর্ষের জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা! একদিকে, ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা। অন্যদিকে, গবেষক-অধ্যাপকদের নির্বাচনী পরীক্ষা। নিট (NEET) অর্থাৎ, চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়বার জন্য যে পরীক্ষা দিতে হয় সেই পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস হল। তথৈবচ ইউজিসি-নেট (UGC-NET) পরীক্ষায়। তফাৎ একটাই, নেট (NET) বাতিল হয়েছে, নিট (NEET) এখনও হয়নি। মজার কথা, দু’টোই সর্বভারতীয় স্তরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুই পরীক্ষা।

আরও পড়ুন: কংগ্রেসের নতুন প্রদেশ সভাপতি ইশা খান চৌধুরী? জানিয়ে দিলেন সাংসদ নিজেই

এবার নিটের মোট পরীক্ষার্থী ২০,৮৭,৪৬২ জন। জেনারেলরা ১,৭০০ টাকা দিয়ে এই পরীক্ষার ফর্ম পুরেছিলেন। ফলপ্রকাশের পর দেখা গেল, প্রথম স্থান অধিকার করেছেন ৬৭ জন। আর প্রত্যেকেই ফুলমার্কস। অর্থাৎ, ৭২০-তে ৭২০! খোঁজ নিয়ে জানা গেল, সেই অসামান্য প্রতিভাধারী ছাত্রছাত্রীদের সকলের সঙ্গেই বিহার-যোগ। সেই রাজ্যে ২০-৩০ লাখ টাকায় ডাক্তারি পরীক্ষার প্রশ্ন বিক্রি হয়েছে। শুধু তাই নয়, রীতোমতো প্রশিক্ষণ দিয়ে পরীক্ষার্থীদের তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল।

প্রশ্নফাঁস দুই সর্বভারতীয় পরীক্ষার, মৌন প্রধানমন্ত্রী, পার্লামেন্টের অপেক্ষায় রাহুল
প্রশ্নফাঁস দুই সর্বভারতীয় পরীক্ষার, মৌন প্রধানমন্ত্রী, পার্লামেন্টের অপেক্ষায় রাহুল

ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ), অর্থাৎ যে সংস্থা এই পরীক্ষা নিয়ে থাকে, তাঁরা যদিও জানিয়েছে, ভুল প্রশ্নের জন্য এবং কয়েক জন প্রার্থীকে ‘গ্রেস মার্ক’ দেওয়ার কারণেই নম্বর বেড়েছে। নিটের প্রশ্নফাঁস নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে বিহারের আর্থিক দুর্নীতি দমন শাখা (ইএইউ)। এখনও পর্যন্ত ১৯ জন গ্রেফতার হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে চলছে মামলা। কাউন্সিলিং বন্ধ করতে বলেনি শীর্ষ আদালত। এদিকে আবার দেশের নানান প্রান্তে, দিল্লিতে তো বটেই, নিট পরীক্ষা বাতিলের দাবি উঠেছে।

বছরে দু’বার করে হয় নেট পরীক্ষা। জুন আর ডিসেম্বর। মঙ্গলবার ছিল জুন মাসের নেট পরীক্ষা। এবার ১১,২১,২২৫ জন পরীক্ষা দিয়েছিলেন। মাত্র একদিন পর, বুধবারই এই পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় ইউজিসি। তাঁদের তরফে বলা হয়েছে, নেটের প্রশ্নও আগে থেকে ফাঁস হয়েছে। ডার্ক ওয়েব বা টেলিগ্রামের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীরা ছবিতে প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে গিয়েছিলেন। এই দুই কেলেঙ্কারি কেন্দ্রের সরকারকে স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে ফেলেছে।

প্রশ্নফাঁস দুই সর্বভারতীয় পরীক্ষার, মৌন প্রধানমন্ত্রী, পার্লামেন্টের অপেক্ষায় রাহুল

প্রশ্নফাঁস দুই সর্বভারতীয় পরীক্ষার, মৌন প্রধানমন্ত্রী, পার্লামেন্টের অপেক্ষায় রাহুল

ইতিমধ্যেই অবাধ, স্বচ্ছ ভাবে পরীক্ষা নিতে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গড়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক। নতুন করে প্রশ্নফাঁস বিরোধি আইন লাগু হল। কঠিন শাস্তির নিধান দিল কেন্দ্র। সিবিআই তদন্ত করছে। সবই তো হল। কিন্তু, যারা এবারের নেট ভালো দিয়েছিলেন, তাঁরা তো পরের নেটে অন্য প্রশ্ন পেয়ে ভালো নাই করতে পারেন। ফলে, অবিচার হল তাঁদের সাথে। যে প্রসঙ্গে নিটের ক্ষেত্রে উঠেছে। গুটিকয়েক জনের জন্য লাখ লাখ ‘সৎ’ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যতকে নষ্ট করা যায় না! শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান তাই জবাব দিয়েছেন। কিন্তু, তা তো নেটের বেলা হল না! একই অন্যায়ে দুই পৃথক আইন।

প্রশ্নফাঁস দুই সর্বভারতীয় পরীক্ষার, মৌন প্রধানমন্ত্রী, পার্লামেন্টের অপেক্ষায় রাহুল

নেটের ঘটনা এই তিন দিন হলেও, নিট দুর্নীতি প্রায় এক সপ্তাহ হল। এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে টুঁ শব্দ করেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিরোধি দলনেতা রাহুল গান্ধী এ বিষয়ে তীব্র আক্রমণ করেছেন। এমনকি রাষ্ট্রসঙ্ঘকে টেনে এনেছেন। আগামী ২৪ জুন থাকে শুরু হবে অধিবেশন। সেখানে একাধিক বিষয় নিয়ে তো বটেই, এই দুই সর্বভারতীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জবাব আশা করতেই পারেন দেশের হবু বিরোধি দলনেতা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন