ঘুষের বিনিময়ে প্রশ্ন মামলায় কৃষ্ণনগরের তৃণমূল প্রার্থী মহুয়া মৈত্রকে তলব করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ডাকা হয় দর্শন হীরানন্দানিকেও। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে ইডি দফতরে হাজির হবার নির্দেশ ছিল। কিন্তু, সেই হাজিরা এড়ালেন মহুয়া। সাফ জানালেন, ভোটের প্রচারে তিনি ব্যস্ত থাকবেন তাই হাজিরা দেওয়া সম্ভব নয়।
আরও পড়ুন: লোকসভা ভোটে লড়বেন না খোদ অর্থমন্ত্রী, নির্বাচনী বন্ড বিশ্বের বৃহত্তম দুর্নীতি, সরব নির্মলার স্বামীও!
ঘুষের বিনিময়ে প্রশ্ন মামলার সূত্র ধরেই বিদেশি মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের একটি মামলায় জড়িয়েছেন মহুয়া মৈত্র। সেই সূত্রেই তাঁকে তলব করে ইডি। মহুয়া আজ জানিয়েছেন, কৃষ্ণনগরের কালীগঞ্জ বিধানসভার নয়াচর গ্রামে প্রচার কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। সেই কারণেই তিনি হাজিরা দিতে পারবেন না। এর আগেও একই মামলায় কৃষ্ণনগরের বহিষ্কৃত তৃণমূল সাংসদকে তলব করেছিল ইডি। কিন্তু সেই সময়েও হাজিরা এড়িয়ে যান মহুয়া।

বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘুষের বিনিময়ে প্রশ্ন মামলায় মহুয়া মৈত্রর সাংসদ পদ খারিজ করে লোকসভার এথিক্স কমিটি। অভিযোগ ছিল, বন্ধু তথা ব্যবসায়ী দর্শন হীরানন্দানির থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন করেছেন মহুয়া। যদিও সে অভিযোগ অস্বীকার করে মহুয়া বলেছিলেন, তিনি কিছু ‘উপহার’ পেয়েছিলেন তাঁর বন্ধুর কাছ থেকে কিন্তু তার সঙ্গে সংসদে প্রশ্ন করার কোনও সম্পর্ক নেই।

সাংসদ পদ খারিজ হলেও এই মুহূর্তে মহুয়ার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করে তদন্তের সুপারিশ করেছে সংসদ। সেই অনুযায়ী লোকপালের নির্দেশে ইডি এবং সিবিআই যৌথভাবে তদন্ত করছে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে। সম্প্রতিই এই মামলায় সিবিআই মহুয়ার কলকাতা, করিমপুরের বাড়ি ও দলীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়েছিল।
ED হাজিরা এড়ালেন মহুয়া, ভোট প্রচারে ব্যস্ত থাকার দোহাই এজেন্সিকে!

মহুয়াকে বহিষ্কার করা হলেও আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে তাঁকেই টিকিট দিয়েছে তৃণমূল। সেই কেন্দ্র থেকেই লোকসভার প্রচারে নামেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভার আগেই আবগারি দুর্নীতি মামলায় দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী তথা আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরীওয়ালকে গ্রেফতার করেছে ইডি। এজেন্সির ‘অতিসক্রিয়তা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা।



