নজরবন্দি ব্যুরোঃ ২০১৭ সালে পরীক্ষা হয়েছিল তারপর ওয়েটিং লিস্টে নাম! এখন ২০২২, মাঝে কেটে গেছে ৫ বছর। বাড়ছে বয়েস, অন্ন সংস্থান বলতে দিন মজুরের কাজ আর টিউশন পড়ানো! ২০১৭ সাল থেকে ২০২২ এই পাঁচ বছর ধরে সহস্রাধিক যুবক যুবতী গ্রুপ ডি পদে কাজ পাওয়ার জন্যে যখন শিক্ষামন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীর মুখের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তখন অভিযোগ উঠছে শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও তাঁদের নিয়োগ করা হয়নি!
আরও পড়ুনঃ পরীক্ষা না করেই চালানো হয়েছিল ট্রেন, ময়নাগুড়ির ট্রেন দুর্ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য
তাঁদের বক্তব্য, “আমরা এমন কি অন্যায় করেছি, যে এত বড়ো শাস্তি আমাদের কে দেওয়া হচ্ছে! আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের চোখ রাঙ্গানি, লাঠি খাওয়া, হাজতবাস কোনটাই বাকি নেই। এমন কি Group D অফিসে ডেপুটেশন জমা দিতে গেলে আমাদের কে দেখে তাদের হাসাহাসি আরো অবাক করেছে। তাহলে আমাদের শেষ পরিনতি কি?”
রাজ্যের নেতা মন্ত্রীদের ট্যাগ করে চলছে ক্রমাগর ট্যুইট কর্মসূচী। দাবি একটাই, নিয়োগ দিন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের দাবি, “মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্য সরকারের নিকট বহুবার আমরা আমাদের অসহায়তার বার্তা জানিয়ে আসছি। আমরা বিগত প্রায় চার বছর যাবৎ ওয়েটিং অবস্থায় রয়েছি। মুখ্যমন্ত্রী ২০১৫ সালে তৎকালীন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ৬০ হাজার গ্রুপ ডি কর্মী নিয়োগ করবেন বলেছিলেন। তারই প্রথম ধাপে ৬ হাজার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি বেরিয়েছিল,আমরা সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে অপেক্ষামান, শুধু তাই নয় আমরা বঞ্চনার শিকার।
চাকরিপ্রার্থীদের প্রশ্ন, “আমাদের অপরাধ কি? আমরা অসহায় গরীব পরিবারের সন্তান-সন্ততি। একটা বহু প্রতীক্ষিত চাকরির দোরগোড়ায় এসেও চরমভাবে অবহেলিত হচ্ছি।” তাঁরা বলছেন, আমরা অনেকভাবেই মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছি কিন্তু আমরা বারংবার ব্যর্থ হয়েছি। আমরা বহু দপ্তর এমনকি কালিঘাটেও গিয়েছি কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে, গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আমাদের দাবি আদায়ের চেষ্টা করলেও আমাদের তিন বার গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
২০১৭ সালে পাশ করেছিলেন, এখনও চাকরি জোটেনি বাংলার গ্রুপ ডি কর্মপ্রার্থীদের

সেইকারনেই রাস্তার আন্দোলন ছেড়ে তাঁরা এখন ট্যুইট কর্মসূচী নিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীকে চাকরিপ্রার্থীদের আবেদন, “নন জয়েনিং সিটে নয়, আপডেটেড ভেকেন্সিতে সকল wbgdrb-2017 wait listed কর্মপ্রার্থীদের দ্রুত এম্প্যানেল তালিকায় নাম প্রকাশ করে বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগ করুন। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতেও প্রস্তুত, সেক্ষেত্রে স্বাস্থ্য দফতরে নিয়োগ করে বেকারত্বের তীব্র মানসিক যন্ত্রনা থেকে মুক্তি দিন। আমরা মানসিক অবসাদে ভুগতে শুরু করেছি।



