নজরবন্দি ব্যুরোঃ রাজ্যে বাড়ছে করোনা (Coronavirus) ও তার নয়া স্ট্রেনে আক্রান্তের সংখ্যা। আর তাই লকডাউনের পথে না হাঁটলেও বাংলায় ফের কড়া বিধিনিষেধ জারি করতে পারে রাজ্য সরকার। সংক্রমণ রুখতে আগামী ৩ জানুয়ারি থেকেই কিছুদিনের জন্য নয়া বিধিনিষেধের কথা জানানো হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ উদ্বেগ বাড়াল রাজ্যের কোভিড গ্রাফে, নতুন সংক্রমণ ৪ হাজার ছাড়াল
আগামী সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে স্কুল পড়ুয়াদের নিয়ে ‘ছাত্র সপ্তাহ’ কর্মসূচি পালনের কথা ছিল। তা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্থগিত রাখা হয়েছে জেলায় জেলায় ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচিও। সরকারি সূত্রের দাবি, দু’টি কর্মসূচিই ‘বাতিল’ নয়। ‘স্থগিত’ করা হয়েছে। করোনা সংক্রমণের হ্রাস-বৃদ্ধির উপর ভিত্তি করে পরবর্তী সূচি পরে ঘোষণা করা হবে।

অপর দিকে লোকাল ট্রেন চলাচল থেকে বিমান যাত্রা- সব ক্ষেত্রেই কড়া নির্দেশিকা মানতে হবে যাত্রীদের। লোকাল ট্রেন আপাতত বন্ধ করার কোনও পরিকল্পনা না থাকলেও কীভাবে লোকালে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সেই চেষ্টাই করবে প্রশাসন। এক্ষেত্রে গত বছরের মতো সরকারি ও বেসরকারি অফিসগুলিতে ৫০ শতাংশ কর্মী নিয়ে কাজ হতে পারে।

সেই সঙ্গে কাজের দিন কমানো সম্ভব কি না, সে পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। বিমানযাত্রাও ক্ষেত্রেও জারি হতে পারে কড়া বিধিনিষেধ। বিদেশ তো বটেই, অন্যান্য রাজ্য থেকে আসা যাত্রীদেরও করোনা পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিয়ে কড়াকড়ি জারি হবে বলে খবর। যে সমস্ত এলাকায় বেশি ভিড় হয়ে থাকে, যেমন পার্কগুলিতে ৫০ শতাংশের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হতে পারে।

এছাড়া শহরের প্রতিটি বাজার স্যানিটাইজ করা হবে। মাস্ক না পরলেই পড়তে হতে পারে শাস্তির মুখে। সিনেমা হলের দর্শক সংখ্যা ৭০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫০ শতাংশ হতে পারে। পাশাপাশি রেস্তরাঁ ও পাবগুলিতেও উপস্থিতির হার ৫০ শতাংশে কমতে পারে। বাতিল হতে পারে রাজ্যের বিভিন্ন মেলা।
ভয়ঙ্কর হচ্ছে রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি, সোম থেকে ধাপে ধাপে লাগু হতে পারে বিধিনিষেধ
তবে নবান্নের একটি সূত্র জানাচ্ছে, এখনই ‘আংশিক লকডাউন’ বা ‘কঠোরতম বিধিনিষেধ’ জারির কথা ভাবা হচ্ছে না। এখনও বন্ধ হচ্ছে না ট্রেন, বাস বা মেট্রো পরিষেবাও। গোটা পরিস্থিতিই প্রতিনিয়ত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বুঝে ধাপে ধাপে বিধিনিষেধ জারির কথা ভাবা হবে বা বিধিনিষেধের আওতা বাড়ানোর কথা ভাবা হবে।



