নজরবন্দি ব্যুরোঃ ২০২০ সালের প্রায় শুরু থেকেই করোনা যাত্রা শুরু করেছিল ভারতে। যার আঁচ থেকে বাঁচেনি বাংলাও। করোনার দাপটে শুরু হয় লকডাউন। সব থেকে বেশি প্রভাব পড়ে শিক্ষাঙ্গনে। প্রায় ২ বছর হতে চলল স্কুল খোলেনি রাজ্যে। আর সেই ঘটনাকে হাতিয়ার করে শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে কটাক্ষ ছুঁড়ে দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপণ দেবনাথ। শিক্ষকদের কুটিক্তি করে তাঁর মন্তব্য, বাড়িতে বসে বসে বেতন নেন, অসহায়দের পাশে দাঁড়ান রাজ্যের না শিক্ষকরা!
আরো পড়ুনঃ পাত্তা দিচ্ছেনা তৃণমূল, যেকোন মূল্যে বামেদের সাথে জোট টিকিয়ে রাখতে ‘অধীর’ কংগ্রেস।
কিন্তু সত্যিই কি তাই? করোনা আবহের শুরুতে যখন লক্ষ লক্ষ মানুষ কাজ হারাচ্ছেন তখন রাজ্যের একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পাশাপাশি রাজ্যের প্রায় সবকটি শিক্ষক সংগঠন পাশে দাঁড়িয়ে ছিল সাধারন মানুষের। মুখ্যমন্ত্রীর ত্রান তহবিলেও টাকা দিয়েছিল এই সংগঠন গুলো। যার মধ্যে অন্যতম বৃহত্তর গ্র্যাজুয়েট টিচার্স অ্যাসোশিয়েসন, উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোশিয়েসনের মত সংস্থা গুলো। পিছিয়ে ছিল না অন্যান্যরাও। যে যার সাধ্যমত ত্রান দিয়েছিল রাজ্যের একাধিক প্রান্তে।
পরে গোদের ওপর বিষ ফোঁড়ার মত কোভিডের ওপর আম্ফান চেপে বসেছিল বাংলার ঘাড়ে। সেখানেও পিছিয়ে ছিলেন না শিক্ষকরা। দক্ষিন ২৪ পরগণা, পূর্ব মেদিনীপুর সহ রাজ্যের প্রায় সবকটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পোউছে গিয়েছিল শিক্ষকদের ত্রাণ। কিন্তু তা হলে কি হবে, অপবাদ দেওয়ার সুযোগ কে ছাড়ে। তেমনই বলার সুযোগ পেয়ে রাজ্যের মন্ত্রী দুষলেন শিক্ষক সমাজ কে।
বাড়িতে বসে বসে বেতন নেন, অসহায়দের পাশে দাঁড়ান রাজ্যের না শিক্ষকরা! বক্তা রাজ্যের মন্ত্রী

রাজ্যের প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ গতকাল কাটোয়ার রবীন্দ্র পরিষদে দুয়ারে শিক্ষক শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, “করোনা অতিমারির সময়ে শিক্ষকরা ঘরে বসে প্রতি মাসের বেতন নিয়েছেন, নিজের পরিবারের জন্য নিয়মিত বাজার করেছেন। কিন্তু সেই সময় দুঃস্থ মানুষের পাশে সেভাবে দাঁড়াননি শিক্ষকরা। এটা আমি লক্ষ্য করেছি।”
এর পর মন্ত্রী মশাই মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সদস্যদের কাছে প্রস্তাব রাখেন দুঃস্থ শিশুদের জামা কাপড় কিনে দেওয়ার জন্যে। তাঁর কথায়, “জেলায় প্রায় আট হাজার শিক্ষক শিক্ষিকা আছেন। তাঁদের প্রত্যেক সদস্য যদি দুটো করে দুঃস্থ শিশুর জামা-প্যান্ট কিনে দেন তাহলে অনেক শিশু পুজোয় নতুন জামা পরতে পারবে।”



