নজরবন্দি ব্যুরোঃ বন্দুক নিয়ে ধৃত বলবিন্দর সহ ২ বিজেপি নেতাকে ৮ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ। বিজেপির নবান্ন অভিযান থেকে আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেফতার হন বলবিন্দর সিং নামের এক শিখ যুবক। পরে বিজেপি দাবি করে তিনি দলীয় নেতা প্রিয়াঙ্কুর পাণ্ডের দেহরক্ষী। কিন্তু মিছিলে বন্দুক সাথে রাখার অপরাধে বলবিন্দর, প্রিয়াঙ্কুর ও আরও একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আজ তাঁদের ৮ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিল আদালত।
আরও পড়ুনঃ সামনেই দীপাবলি-ধনতেরাস। জেনে নিন কত থাকবে সোনার দাম।


আজ ধৃতদের আদালতে পেশ করে পুলিশ, সেখানে বিচারকের কাছে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজত দাবি করাহয় পুলিশের পক্ষ থেকে। বিচারক ১০ দিন মঞ্জুর না করে আগামী ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত, ৮ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন ধৃতদের।
বলবিন্দর সিং কে গ্রেফতার করার পর বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলিপ ঘোষ সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি দিয়ে মন্তব্য করেন পাগড়ি বলে পুলিশ মেরেছে, গোল টুপি হলে মারত না! দাবি করা হয় বলবিন্দরের কাছে যে বন্দুক রয়েছে তা লাইসেন্স প্রাপ্ত, তিনি বিজেপি নেতা প্রিয়াঙ্কুর পাণ্ডের দেহরক্ষী। কিন্তু এদিন বন্দুক সাথে রাখার উপযুক্ত কোনও কাগজ বলবিন্দর দেখাতে পারেননি বলেই পুলিশ সূত্রে খবর। আর সে কারনেই তাঁকে ৮ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে রাজ্য পুলিশ পাগড়ি খুলে যাওয়া বা হ্যানস্থার কথা অস্বীকার করেছে। পুলিশের দাবি, শিখ ধর্মাবলম্বী যিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন, ধস্তাধস্তির সময় তাঁর পাগড়ি নিজে থেকেই খুলে যায়। পুলিশের পক্ষ থেকে কোনরকমভাবে কোন সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে আঘাত করা হয়নি। শুধু তাই নয়, পুলিশের দাবী- পুলিশ আধিকারিক ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের আগে পাগড়ি ঠিক করে নেওয়ার কথা বলে।


রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে গ্রেপ্তারির ঠিক পূর্ব মুহূর্তে বলবিন্দর সিং এর একটি ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। এমনকি কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, তার পাগড়ী একেবারে সঠিক ভাবে রয়েছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনা নিয়ে হরভজন সিং কিংবা শিখ সম্প্রদায়ের পাশাপাশি গেরুয়া শিবির থেকেও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। বিজেপির দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবে পুলিশ বিজেপির শান্তিপূর্ণ মিছিলে নজিরবিহীনভাবে অত্যাচার চালিয়েছে।
ইচ্ছাকৃতভাবেই তাঁরা ধর্মকে আঘাত করার জন্য বলবিন্দর সিং এর পাগড়ি খুলে দিয়েছে। উলেখ্য, গত বৃহস্পতিবার গেরুয়া শিবিরের নবান্ন অভিযান ঘিরে রণাঙ্গন হয়ে উঠেছিল কলকাতা মহানগর। নবান্ন অবধি পৌঁছানোর চেষ্টা করা মাত্রই বিজেপি কর্মীদের মারধরের অভিযোগ ওঠে । এরপর বিজেপির মিছিল থেকে একটি অগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ । আর এই আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করতে গিয়েই পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় বলবিন্দর সিং নামক এক শিখ ব্যক্তির।








