নজরবন্দি ব্যুরোঃ ৫০ হাজার কৃষক ঢুকতে পারে দিল্লী, আশঙ্কায় কড়া পুলিশি নিরাপত্তা রাজধানীতে। কেন্দ্রের কৃষি বিলের বিরুদ্ধে দিল্লী- হরিয়ানা মধ্যবর্তী সিঙ্ঘু সীমান্তে কৃষকদের অবস্থান বিক্ষোভ চলছে বেশ কয়েক মাস ধরে। কেন্দ্র ও কৃষক দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অটল। এমন অবস্থায় আন্দোলনের ঝাঁঝ বাড়াতে উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানা থেকে রাজধানী দিল্লীতে প্রবেশ করতে পারেন প্রায় পঞ্চাশ হাজার কৃষক। তেমনই খবর গোয়েন্দা সূত্রে। আর তাই আজ বৃহস্পতিবার উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানা থেকে রাজধানী দিল্লিতে আসার রাস্তাগুলির আশপাশে বড় সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ আজ দেশের করোনা বুলেটিন
যদিও কৃষক সংগঠনের পক্ষ থেকে এমন কোন পরিকল্পনার কথা খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে দিল্লী পুলিশের এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন গোপন সূত্রে জানা গিয়েছে, কৃষক নেতারা তাঁদের অনুগামীদের বলেছেন, সবাই যেন সিংঘু সীমান্তে পানিপথ টোল প্লাজার কাছে জড়ো হয়। সেখান থেকে কৃষকরা দিল্লিতে ঢোকার চেষ্টা করতে পারেন। কৃষক সংগঠনগুলির পোস্টারেও ডাক দেওয়া হয়েছে ‘দিল্লি চলো’। এই প্রবেশ রুখতে পুলিশ কি ব্যবস্থা নিয়েছেন? ওই কর্তা জানাচ্ছেন দিল্লির প্রতিটি বর্ডার পয়েন্টে সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সিংঘু, টিকরি এবং গাজিপুরের যে এলাকায় কৃষকরা অবস্থান করছেন, সেখানেও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, নির্দিষ্ট কয়েকটি পয়েন্টে ২৪ ঘণ্টা পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত গত এপ্রিল মাসে নয়ডার বাসিন্দা মণিকা আগরওয়াল শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের করে জানান গত কয়েক মাস ধরে চলা কৃষক আন্দোলনের জেরে লাগাতার বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। কৃষকরা তিন জায়গায় দিল্লি সীমান্ত অবরোধ করে বসে আছেন। আমজনতার ভোগান্তি বাড়ছে এতে। কর্মক্ষেত্রে পৌঁছতে অনেক সময় লেগে যাচ্ছে। এরপরেই মামলার শুনানিতে আন্দোলনের বিপক্ষে রায় দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট জানায় বৃহত্তর সমস্যার সমাধান রাস্তা অবরোধ করে হয় না। এর জন্য বিচারবিভাগ, প্রশাসন এবং রাজনীতির দ্বারস্থ হতে হয়।
৫০ হাজার কৃষক ঢুকতে পারে দিল্লী, আশঙ্কায় কড়া পুলিশি নিরাপত্তা রাজধানীতে। একইসাথে আদালতের সংযোজন যা-ই হোক না কেন, রাস্তা অবরোধ করে সাধারণ মানুষের অসুবিধে ঘটানো অনুচিত। আগরওয়ালের অভিযোগের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশ সরকারকে জরুরি তলব করে। দিল্লির সরকার এবং পুলিশ প্রশাসনও এতে নড়েচড়ে বসে। তাই এই আন্দোলন যাতে আরও বৃহত্তর আকার না নেয় তাই আগে থেকেই প্রস্তুত হয়েছে দিল্লী পুলিশ।



