জামিন মঞ্জুর করলেই তো মামলার নিষ্পত্তি! ফের কাল শুনানির আর্জি কল্যাণের

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ জামিন মঞ্জুর করলেই তো মামলার নিষ্পত্তি! আজ ফের শুনানি চলল নারদ মামলার চার হেভিওয়েটকে নিয়ে। তবে তাতে জামিন মিললো না আজও। সুপ্রিম কোর্টে খারিজ হওয়ার পর কলকাতা হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চে চলছে এই মামলার শুনানি। শুনানির শুরু থেকেই পক্ষ বিপক্ষ নিয়ে শুরু হয়েছিলো বাদানুবাদ। শুরুতেই এই মামলায় রাজ্যকে পক্ষ বানানোর আবেদন করেছিলেন সলিসেটর তুষার মেহতা। তিনি আবেদন জানিয়েছিলেন, এই মামলায় রাজ্যকে একটা পক্ষ বানানো হোক, অভিযুক্তদের পাশাপাশি রাজ্যও নিজের কথা বলবে।

আরও পড়ুনঃ ইয়াসে বাংলার ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখতে আগামীকাল রাজ্য সফরে প্রধানমন্ত্রী।

সঙ্গে তিনি মামলা স্থানাতরিত করার প্রস্তাব দেন, উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা নিয়ে। অভিযুক্তদের প্রথম দিনের জামিনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘‘জামিন মঞ্জুর করেছেন যে মহান বিচারপতিরা, তাঁদের কাছে আমর যুক্তি বিবেচিত হবে না।’’ সঙ্গে বলেন , ‘‘আমি নিম্ন আদালতের বিচারপতির বিরুদ্ধে না। বিচারপতি পক্ষপাতিত্ব করেছেন, এমন অভিযোগও তুলছি না। আমার প্রশ্ন, এই মামলায় সাধারণ মানুষের কী উপলব্ধি কি হবে?

যদিও প্রশ্নের উত্তরে বিচারপতি অরিজিত মুখোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দেন নিম্ন আদালতের বিচারপতিদের কোনভাবেই প্রভাবিত করা হয়নি। সঙ্গে তিনি জানান জামিন স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে অভিযুক্ত অর্থাৎ ৪ নেতা মন্ত্রীদের পক্ষ থেকে ৪টি আবেদন করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। অপর দিকে CBI চাইছে  চাইছে মামলাটি অন্য রাজ্যে সরিয়ে নিয়ে যেতে।  রাজ্যে জন মানসে বিচার ব্যবস্থার প্রভাবের কথাও বারবার তোলা হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দলের পক্ষ থেকে। সবদিক ভেবে শুনানির মাঝেই বিচারপতি বন্দোপাধ্যায় প্রশ্ন করেছিলেন তবে কি জামিন মঞ্জুর করলে, সেটাই বেশি প্রাসঙ্গিক হবে?

জামিন মঞ্জুরের পক্ষে সয়াল করেন সিঙ্ঘভিও। তাঁর কথায়, ‘‘অভিযুক্তরা কিন্তু  ১৭ মে মৌখিক আবেদনের ভিত্তিতে জামিন পেয়েছিল। আর তার দুদিন পরই আইনশৃঙ্খলা খারাপ হওয়ার কারণ দেখিয়ে দেখিয়ে হলফনামা করা হল।’ তাঁর যুক্তি জনসাধারণের ভয় দেখিয়ে জামিনের বিরোধিতা করা কোনও যুক্তি হতে পারে না। সাধারণ বিচারে অভিযুক্তরা জামিন পাওয়ার যোগ্য।

আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় শুনানি কালে শুভেন্দু-মুকুল প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন করেন এই মামলায় তাঁরাও যুক্ত ছিলেন তাহলে তাঁদের কেনো তলব বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। যদিও CBI আইনজীবী মেহতা এই প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে বলেছেন তিনি শুধু আইনের উত্তর দেবেন। অন্যদিকে অভিযুক্তদের আইনজীবী সিঙ্ঘভিকে বিচারপতি মুখোপাধ্যায় বলেন ‘‘কেবল জামিন মঞ্জুর করাটাই একমাত্র প্রশ্ন নয়। জামিন মঞ্জুর হলে তো পুরো মামলারই নিষ্পত্তি হয়ে যাবে।”

জামিন মঞ্জুর করলেই তো মামলার নিষ্পত্তি! আজও এই মামলার কোন নিষ্পত্তি হয়নি।  কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আগামী কাল প্রথম ভাগেই ফের এই মামলার শুনানির আবেদন জানিয়েছেন। ্সেই মতো শুক্রবার বেলা ১২ টায় ফের শুনানি বসবে নারদ মামলার ৪ অভিজুক্তের জামিন নিয়ে।  গত কয়েকদিন ধরে রাজ্যের রাজনীতি একপ্রকার উত্তাল এই চার হেভিওয়েটের মামলা নিয়ে। এক সকালে আচমকা গ্রেপ্তার থেকে জামিন, জামিনে স্থগিতাদেশ, প্রেসিডেন্সি, SSKM, সুপ্রিমকোর্ট সব মিলিয়ে এই মামলা ঘুরে চলেছে। সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় তরদন্তকারী সংস্থার আবেদন খারিজ করার পর ফের বৃহত্তর বেঞ্চে শুনানি চলছে নারদ মামলার।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন