নজরবন্দি ব্যুরোঃ নাড্ডার পরেই যোগ্যতম দাদা, এমনটাই মনে করেন বাগদার বিজেপি বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দরাজ প্রশংসা শোনা গেল বিধায়কের মুখে। বছর দুয়েক আগে মুকুল রায়ের হাত ধরে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন বিশ্বজিৎ। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। মুকুল রায়ও ফিরে গিয়েছেন তাঁর পুরোনো ঘরে। প্রিয় দাদাকে অপমান করছেন বর্তমান দলের নেতারা, ঠিক মেনে নিতে পারছেন না তিনি।
আরও পড়ুনঃ ওষুধ প্রয়োগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গায়েব সব উপসর্গ। তবে কি মিলল করোনার মহৌষধ?
শনিবার বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “BJP মহাসাগরের মতো। সেখান থেকে কয়েকবিন্দু জল চলে গেলে কোনও সমস্যা হবে না। কোটি কোটি মানুষ দল করে। তাঁদের নীতি আদর্শ রয়েছে।” এই বক্তব্যের পাশাপাশি একটি ট্যুইট করেছেন দিলীপ ঘোষ। যেখানে বলা হয়েছে, ‘জীর্ণ পাতা গাছের কোনও কাজে আসে না। জীর্ণ পাতা ঝরে গেলে কোনও ক্ষতি হয় না। বরং গাছ নতুন পাতায় ভরে ওঠে। নবজীবন লাভ করে গাছ।’ ট্যুইটারের পোস্টে কোথাও মুকুল রায়ের নাম উল্লেখ করেননি দিলীপ ঘোষ। কিন্তু তাঁর এই পোস্ট যে মুকুল রায়কে ইঙ্গিত করে তা নিয়ে নিশ্চিত রাজনৈতিক মহল।
এদিকে দিলীপ ঘোষের ইঙ্গিত পূর্ণ ট্যুইটে চটেছেন অনেকেই। নাড্ডার পরেই যোগ্যতম দাদা, তিনিই যখন নেই তখন এই দল করে আর কি হবে? বক্তব্য ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন বাগদার বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস। মমতা এবং অভিষেকের প্রশংসা করে বিধায়ক বলেন, ‘মুকুল রায়ের সঙ্গে আমার পারিবারিক সম্পর্ক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমার মধুর সম্পর্ক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে স্নেহ করেন।’
এদিকে তৃণমূল সূত্রে খবর, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে ৩৫ জনের তালিকা তুলে দিয়েছেন মুকুল রায়। সূত্র বলছে, তালিকায় ৮ বিধায়ক দুই সাংসদ ছারাও ২৫ জন বিজেপি নেতার নাম রয়েছে। যাঁদের মধ্যে অনেকেই আবার তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাননি বরং আগে থেকেই বিজেপি করতেন! সূত্রের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুমতি দিলে তবেই দলে নেওয়া হবে এই ৩৫ নেতা নেত্রীকে! এখন দেখার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের আগে নিজেদের কতটা শক্তিশালী দল হিসেবে সর্বভারতীয় রাজনীতিতে তুলে ধরতে পারে তৃণমূল।



