স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, প্রেসার, সুগার, অ্যান্টিবায়োটিক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের বাজারে ৩০% পর্যন্ত জাল ওষুধ মিশছে। কলকাতার মেহতা বিল্ডিং, গিরিয়া ট্রেড সেন্টার, গাঁধী মার্কেট এবং বাগরি মার্কেটে অভিযান চালিয়ে রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগ ২০ লক্ষ টাকার সন্দেহজনক ওষুধ বাজেয়াপ্ত করেছে।
তদন্তে উঠে এসেছে ভয়াবহ তথ্য— আসল ওষুধের বাক্সের মধ্যেই জাল ওষুধ ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে! ১০টি স্ট্রিপ থাকলে তার মধ্যে ৭টি আসল, ৩টি জাল। ফলে সহজেই ধোঁকা খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
কীভাবে চিনবেন আসল ও নকল ওষুধ? বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
নকল ওষুধ চেনার কিছু সহজ উপায় জানিয়েছেন রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা—
কিউআর কোড স্ক্যান করুন:
ওষুধের গায়ে দেওয়া QR কোড স্ক্যান করুন। যদি “Does not match any documents” দেখায়, তাহলে ওষুধটি জাল হতে পারে।কেবল অথরাইজড দোকান থেকে ওষুধ কিনুন। সরকারি অনুমোদিত (Authorized Stockist/Dealer) দোকান থেকেই ওষুধ কিনুন। অনলাইনে অতিরিক্ত ডিসকাউন্ট পাওয়া ওষুধ কেনা এড়িয়ে চলুন।
ব্যাচ নম্বর মিলিয়ে নিন: ক্যাশ মেমোতে লেখা ব্যাচ নম্বর ও ওষুধের বাক্সে থাকা ব্যাচ নম্বর এক কি না, দেখে নিন। ড্রাগ লাইসেন্স চেক করুন। যেখানে ওষুধ কিনছেন, সেই দোকানের ড্রাগ লাইসেন্স আছে কি না, তা যাচাই করুন।
সন্দেহ হলে অভিযোগ জানান: WhatsApp নম্বর: ৭৯০৮০৭৭৬১৫ । ইমেল করুন: prosecutionandcomplaintcell@gmail.com
বাজারে কত টাকার নকল ওষুধ আছে? বাড়ছে উদ্বেগ
ড্রাগ কন্ট্রোলের অভিযানে এত পরিমাণ নকল ওষুধ বাজেয়াপ্ত হলেও এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। এতে সাধারণ মানুষের মনে বাড়ছে উদ্বেগ— বাজারে ঠিক কত পরিমাণ নকল ওষুধ ছড়িয়ে পড়েছে? স্বাস্থ্য আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, তদন্ত চলছে এবং শীঘ্রই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নকল ওষুধ কেন মারাত্মক বিপজ্জনক?
নকল ওষুধ শুধু প্রতারণাই নয়, এটি সরাসরি জীবনহানির কারণ হতে পারে। কারণ এতে—
সঠিক কার্যকারী উপাদান (Active Ingredients) থাকে না। ডোজ ঠিক থাকে না, ফলে ওষুধ কাজ করে না। ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকতে পারে, যা শরীরের জন্য মারাত্মক।
সতর্ক থাকুন, সুস্থ থাকুন!
নকল ওষুধ চেনার উপায় জানা থাকলে নিজেকে এবং পরিবারকে বিপদের হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব। সরকারি অনুমোদিত দোকান থেকে ওষুধ কিনুন, সবসময় ক্যাশ মেমো নিন এবং সন্দেহজনক কিছু দেখলে অভিযোগ জানান।



