লোকসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বুধবার যে বন্দি মন্ত্রীদের সরানোর বিল পেশ করেছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিল অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী, কোনও মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্যের মন্ত্রী যদি গুরুতর অভিযোগে টানা ৩০ দিন জেল হেফাজতে থাকেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে পাঁচ বছর বা তার বেশি সাজা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে তাঁকে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হবে।
বিরোধীদের অভিযোগ, এই বিল আসলে গণতন্ত্রে হিটলারি আঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ধ্বংসের নতুন কৌশল।


মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া প্রতিক্রিয়া
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিলকে সরাসরি গণতন্ত্র হত্যার চক্রান্ত আখ্যা দেন। তাঁর কথায়, ‘‘এটা কোনও সংস্কার নয়। বরং বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা। সাংবিধানিক রক্ষাকবচ ভেঙে দিয়ে এক ব্যক্তি ও এক সরকারের হাতে যাবতীয় ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করতে চাইছে কেন্দ্র।’’
মমতা আরও বলেন, ‘‘এই পরিস্থিতি জরুরি অবস্থার থেকেও ভয়ঙ্কর। আদালতের ক্ষমতা দমানো হচ্ছে, গণতন্ত্রকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।’’

সিপিএমের সরব অবস্থান
শুধু তৃণমূল নয়, সিপিএমও এই বিলের বিরুদ্ধে একসুরে সরব হয়েছে। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘‘৩০ দিন হেফাজতে থাকার পরে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীদের ক্ষমতাচ্যুত করার বিল আসলে মোদী সরকারের নয়া-ফ্যাসিবাদী চরিত্রকে প্রকাশ করছে।’’


রাজ্যসভার সিপিএম সাংসদ জন ব্রিটাসও তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এই বিলের মাধ্যমে দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে দিয়ে বিজেপি-বহির্ভূত রাজ্য সরকারগুলির স্থিতিশীলতা নষ্ট করার পরিকল্পনা চলছে।

পার্থ-জ্যোতিপ্রিয় থেকে কেজরীওয়াল প্রসঙ্গ
রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় এসেছে পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রীদের গ্রেফতার প্রসঙ্গও। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়ে এখনও জেলে রয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁকে পাঁচ দিনের মাথায় মন্ত্রিত্ব থেকে সরানো হয়েছিল। অন্যদিকে, রেশন দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হলেও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস মন্ত্রিত্বে বহাল ছিলেন।
দিল্লিতে আবার আবগারি দুর্নীতি মামলায় মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীওয়াল তিহাড় জেলে থেকেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সংবিধানে এমন পরিস্থিতিতে মন্ত্রীদের পদচ্যুত করার নিয়ম না থাকায় এইসব ঘটনা ঘটেছিল। কেন্দ্র দাবি করছে, নতুন বিল সেই ফাঁক পূরণ করবে। কিন্তু বিরোধীরা মনে করছে, এটি আসলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের অস্ত্র।
রাজনৈতিক লড়াইয়ের নতুন অধ্যায়
কেন্দ্র বলছে, দুর্নীতি রুখতেই এই পদক্ষেপ। কিন্তু বিরোধী শিবিরের মতে, এটি গণতন্ত্রে হিটলারি আঘাত, যেখানে আদালতের স্বাধীনতা ও জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের ক্ষমতাকে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।
তৃণমূল ও সিপিএমের একসুরে বিরোধিতা এই বিতর্ককে আরও জোরদার করেছে। এখন নজর সংসদে বিলের ভাগ্য এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে এর প্রভাবের দিকে।







