ঝুলেই রইল ২৬ হাজার চাকরিপ্রার্থীর ভাগ্য! ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টে শেষ SSC মামলার শুনানি

এপ্রিল ২০২৩-এর SSC মামলার শুনানি এখনো স্থগিত, ২৬ হাজার চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ ঝুলে আছে, সুপ্রিম কোর্টে পরবর্তী শুনানি ১০ ফেব্রুয়ারি

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলার কর্মসংস্থান নিয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। প্রায় ২৬ হাজার চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ এখন সুপ্রিম কোর্টের রায় শোনার ওপর নির্ভর করছে। সেই রায় শোনার জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সোমবারের শুনানি শেষ হয়নি, এবং প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না জানিয়েছেন, ১০ ফেব্রুয়ারি সব পক্ষের বক্তব্য শুনে রায়দান সম্পন্ন করবেন। এদিন, শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ এও জানতে চেয়েছে, যোগ্য এবং অযোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের আলাদা করা সম্ভব কি না?

এসএসসি মামলার শুরুর পরবর্তী পরিস্থিতি

গত সপ্তাহে শীর্ষ আদালতে এই মামলার শুনানি শুরু হওয়ার পর, প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক চাকরি পাবে কি না, তা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। কিন্তু, মামলার মীমাংসা সম্ভব হয়নি। গত সপ্তাহের মতোই, আজও বিভিন্ন পক্ষের আইনজীবীরা সওয়াল-জবাব করেন। সওয়ালের মধ্যে, এক পক্ষের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য জানিয়েছেন যে, পুরো বিষয়টি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অঙ্গ বলে তিনি মনে করেন এবং সেই সঙ্গে বাগ কমিটির রিপোর্টও উঠে আসে।

আইনজীবীদের সওয়াল ও বিরোধী দাবী

অন্য এক পক্ষের আইনজীবী রউফ রহিম দাবি করেন, স্কুল সার্ভিস কমিশন, রাজ্য সরকার এবং বোর্ড মোট দেড় হাজার কোটি টাকা তুলেছে এবং প্রত্যেকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা নিয়ে নিয়েছেন। এছাড়াও, প্রতিটি চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে ৭-১০ লক্ষ টাকা নেয়া হয়েছিল। এর ফলে, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এসএসসিকে ৫০০ কোটি টাকা জরিমানা করার পক্ষেও সওয়াল করেন।

আলোচনা: যোগ্য এবং অযোগ্যদের আলাদা করা সম্ভব?

প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ এখনো এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। তাদের প্রশ্ন ছিল, কি করে যোগ্য ও অযোগ্যদের আলাদা করা যাবে এবং তা হলে যোগ্যদের রেখে অযোগ্যদের চাকরি বাতিল করা যাবে কি না। এছাড়াও, মামলাকারীরা দাবি করেছেন যে, ২০১৬ সালের পরীক্ষার্থীদের আবার পরীক্ষা নেওয়া হোক, যাতে যোগ্যদের আলাদা করা সম্ভব হয়।

পূর্ববর্তী শুনানি এবং পরবর্তী দিন ধার্য

এদিকে, কলকাতা হাইকোর্টে মামলাকারীদের পক্ষ থেকে আরো একটি দাবি উঠেছে, যা হলো ২০১৬ সালের পরীক্ষার্থীদের ফের পরীক্ষা নেওয়া। কলকাতা হাইকোর্টের পক্ষ থেকে এখনও এই দাবি খতিয়ে দেখা হয়নি। তবে, সুপ্রিম কোর্টে ৩ ফেব্রুয়ারির জন্য পরবর্তী শুনানি দিন নির্ধারিত হলেও, এক আইনজীবীর কথায় সেই দিন সরস্বতী পুজো হওয়ায় শুনানি পেছানোর দাবি করা হয়। এরপর, সুপ্রিম কোর্ট পরবর্তী শুনানি ১০ ফেব্রুয়ারি স্থির করে, যেখানে সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শোনার পর রায়দান করবেন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না।

SSC মামলার ভবিষ্যৎ

এখন, প্রায় ২৬ হাজার চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ ঝুলে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি শুনানির পর, এই মামলার পরবর্তী সিদ্ধান্ত আসবে এবং চাকরি প্রার্থীদের মধ্যে হতোদ্যমতা বা আশা বিরাজ করবে। তবে, এই মামলার শেষ রায় প্রার্থীদের জন্য অনেক বড় পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত