নতুন বছর এলেই ভবিষ্যৎ নিয়ে আগ্রহ বাড়ে। অনেকেই আশা করেন, আগামী দিনগুলো সুখ ও পরিবর্তনের বার্তা আনবে। আবার একাংশের চোখ থাকে নানা ভবিষ্যদ্বাণীর দিকে—বিশেষ করে ঐতিহাসিক ভবিষ্যৎদ্রষ্টা কিংবা আধুনিক ‘প্রফেট’-দের কথায়। সেই সূত্রেই ২০২৬ সাল ঘিরে বাবা ভাঙ্গা ও নস্ট্রাদামুসের নামে প্রচলিত কিছু ভবিষ্যদ্বাণী নতুন করে অনলাইনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
বাবা ভাঙ্গার নামে কী বলা হচ্ছে
বুলগেরিয়ার ভবিষ্যৎদ্রষ্টা বাবা ভাঙ্গা-র নামে প্রচলিত ভবিষ্যদ্বাণীগুলিতে ২০২৬ সালের জন্য একাধিক উদ্বেগজনক সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে। অনলাইন প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে—এই বছরে নাকি একটি বড় বৈশ্বিক সংঘাত শুরু হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে পূর্ব ইউরোপ থেকে শুরু করে আমেরিকা ও চিনের মতো বিশ্বশক্তির উপর। কেউ কেউ এটিকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইঙ্গিত বলেও ব্যাখ্যা করছেন।
এ ছাড়াও তাঁর নামে মহাজাগতিক যোগাযোগ, অর্থাৎ ভিনগ্রহী জীবনের সঙ্গে মানুষের সংযোগের সম্ভাবনার কথাও বলা হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রেও ভয়াবহ ভূমিকম্প, সুনামি ও বন্যার আশঙ্কার কথা প্রচারিত হচ্ছে, যা নাকি বিশ্বের বড় অংশকে প্রভাবিত করতে পারে।
পুতিন ও বিশ্ব রাজনীতির ভবিষ্যৎ?
বাবা ভাঙ্গার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া আর একটি দাবি হল—২০২৬ সালে রাশিয়ার ক্ষমতায় পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-এর পর এক শক্তিশালী নতুন নেতার উত্থান হতে পারে, যা বিশ্ব রাজনীতিতে বড় রদবদল আনবে—এমন ব্যাখ্যাও শোনা যাচ্ছে।
নস্ট্রাদামুসের ভবিষ্যৎ-কবিতা ঘিরে ব্যাখ্যা
ফরাসি দার্শনিক ও ভবিষ্যৎদ্রষ্টা নস্ট্রাদামুস-এর ১৫৫৫ সালে প্রকাশিত বই Les Prophéties আজও আলোচিত। তাঁর লেখা বহু কবিতার অস্পষ্ট ব্যাখ্যা থেকে অনুগামীরা দাবি করেন, লন্ডনের মহা অগ্নিকাণ্ড, ৯/১১ বা আধুনিক রাজনৈতিক ঘটনাও নাকি আগে থেকেই ইঙ্গিত করা ছিল।
২০২৬ নিয়ে তাঁর নামে যে ব্যাখ্যাগুলি ঘুরছে, তার মধ্যে রয়েছে—সাত মাসব্যাপী এক ভয়াবহ যুদ্ধ, কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তির আকস্মিক মৃত্যুর ইঙ্গিত এবং ইউরোপের একটি অংশে ‘রক্তনদীর ধারা’। এমনকি ‘মৌমাছির বিশাল ঝাঁক’-এর উল্লেখকে কেউ কেউ নতুন কোনও রোগের রূপক হিসেবেও ব্যাখ্যা করছেন।
‘লিভিং নস্ট্রাদামুস’ অ্যাথোস সালোমের দাবি
আধুনিক সময়ের ভবিষ্যৎদ্রষ্টা হিসেবে পরিচিত ব্রাজিলের অ্যাথোস সালোমে নিজেকে ‘লিভিং নস্ট্রাদামুস’ বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি আগেই কোভিড-১৯ বা ইউক্রেন যুদ্ধের মতো ঘটনা আঁচ করতে পেরেছিলেন। ২০২৬ সালের জন্য তাঁর পূর্বাভাসে রয়েছে—উত্তর মেরু অঞ্চলে ন্যাটো ও রাশিয়ার সামরিক উত্তেজনা এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় কাঠামোগত পরিবর্তন, যেখানে তেল-সমৃদ্ধ দেশগুলির ভূমিকা বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
এই সব ভবিষ্যদ্বাণী ঘিরে কৌতূহল থাকলেও, ইতিহাসবিদ ও বিজ্ঞানীদের একাংশ স্পষ্ট করে বলছেন—এগুলির কোনওটিই যাচাইযোগ্য নয়। কোনও ভবিষ্যদ্বাণীকে বিশ্বাসযোগ্য বলতে হলে তা ঘটনার আগে স্পষ্ট ভাষায় নথিভুক্ত থাকতে হবে এবং একাধিক স্বাধীন উৎসে তার সত্যতা মিলতে হবে। ২০২৬ সাল নিয়ে প্রচলিত কোনও ভবিষ্যদ্বাণীই সেই মানদণ্ড পূরণ করে না।
সব মিলিয়ে, নতুন বছর ঘিরে ভবিষ্যৎদ্রষ্টাদের কথায় ভয় বা উত্তেজনার বদলে বাস্তব তথ্য, বর্তমান পরিস্থিতি ও যুক্তিবাদী বিশ্লেষণেই ভরসা রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।



