দোল পূর্ণিমা শুধু রঙের উৎসব নয়, জ্যোতিষশাস্ত্র মতে এটি অত্যন্ত শক্তিশালী তিথি। ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা চন্দ্রশক্তি, মানসিক শক্তি ও আধ্যাত্মিক উন্নতির প্রতীক। এই দিনে সঠিক উপায় পালন করলে জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন, আর্থিক উন্নতি এবং মানসিক শান্তি লাভ করা যায়—এমনটাই মত জ্যোতিষ বিশেষজ্ঞদের। জেনে নিন দোল পূর্ণিমায় কোন ৫টি কাজ করলে সৌভাগ্যের দ্বার খুলতে পারে।
চন্দ্রদেবকে অর্ঘ্য প্রদান
পূর্ণিমার রাতে চাঁদকে কাঁচা দুধ বা গঙ্গাজল মিশ্রিত জল অর্ঘ্য হিসেবে নিবেদন করলে মন শান্ত হয় এবং পারিবারিক কলহ কমে। চন্দ্র মনের অধিপতি গ্রহ—তাঁকে সন্তুষ্ট করলে মানসিক স্থিতি ও সৌভাগ্য বৃদ্ধি পায়।
হোলিকা দহনের আগুনে নিবেদন
হোলিকা দহনের সময় সামান্য তিল, গুড় বা নাড়ু আগুনে অর্পণ করা শুভ বলে মানা হয়। এটি নেতিবাচক শক্তি ও বাধা দূর করে। জ্যোতিষ মতে, আগুনে নিবেদন মানে জীবনের দুঃশ্চিন্তা ও অশুভ শক্তির দহন।

শ্রীকৃষ্ণ বা রাধা–কৃষ্ণের পূজা
দোলের দিন ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে আবির অর্পণ ও তুলসী পাতা নিবেদন করলে প্রেম, সম্পর্ক ও সৌভাগ্যে উন্নতি হয়। অনেকেই এই দিনে “ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়” মন্ত্র জপ করেন।
দান–ধ্যান ও অন্নদান
পূর্ণিমা তিথিতে দান অত্যন্ত ফলদায়ক। গরিবদের খাবার, পোশাক বা মিষ্টি দান করলে পুণ্য বৃদ্ধি হয় এবং শনির কুপ্রভাব কমে—এমনটাই মত শাস্ত্রবিদদের।
ঘরে গঙ্গাজল ছিটিয়ে শুদ্ধিকরণ
দোল পূর্ণিমার সকালে ঘরে গঙ্গাজল ছিটিয়ে পরিষ্কার করলে নেগেটিভ এনার্জি দূর হয়। বিশেষ করে পূর্ব বা উত্তর দিকে প্রদীপ জ্বালানো শুভ বলে মনে করা হয়।
দোল পূর্ণিমার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য
ফাল্গুন পূর্ণিমা হল প্রেম, সম্প্রীতি ও সত্যের বিজয়ের প্রতীক। হোলিকা দহন অধর্মের উপর ধর্মের জয়কে স্মরণ করায়। রঙের হোলি মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যের বার্তা দেয়। জ্যোতিষ মতে, পূর্ণিমার চন্দ্রশক্তি জীবনে নতুন সূচনা করার সেরা সময়।



